• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

মিল্কিওয়ে ছায়াপথের ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ধাতুর বিশাল ভান্ডারের সন্ধান

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ ধাতব উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে সম্প্রতি মহাশূন্যে পরিচালিত পর্যবেক্ষণে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দ্য অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে জানানো হয়েছে যে, শনাক্ত হওয়া এই গ্যাসীয় উপাদানগুলো মূলত প্রাচীন নক্ষত্রের বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম বাদে বাকি যেকোনো ভারী উপাদানকেই ধাতু হিসেবে গণ্য করা হয়, যার মধ্যে অক্সিজেন, কার্বন, লোহা এবং সোনার মতো মৌল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশালাকার নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই উপাদানগুলো গঠিত হয়। পরবর্তীতে বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলো মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন নক্ষত্র কিংবা গ্রহ গঠনের মূল উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখে।

কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোল ফোর্ড এই আবিষ্কারের নেপথ্যের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, মিল্কওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ব্ল্যাকহোলটি এর চারপাশের বস্তু ধীরে ধীরে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। অন্যান্য গ্যালাক্সির সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের তুলনায় এটি অনেক কম গতিতে উপাদান গ্রাস করছে। এই মন্থর গতির কারণ উদঘাটন করতে হলে ব্ল্যাকহোলের আশপাশে থাকা গ্যাস, ধূলিকণা এবং প্রদক্ষিণরত নক্ষত্রের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য গভীরভাবে অনুধাবন করা জরুরি।

গবেষকদের মতে, ব্ল্যাকহোলের সান্নিধ্যে থাকা গ্যাসের নিঃসরণ স্থানীয় মহাজাগতিক মেঘের ওপর নির্ভর করে ঘটে, যার ফলে কেবল গ্যাস বিশ্লেষণ করে ব্ল্যাকহোলের প্রকৃত সক্রিয়তা সবসময় পরিমাপ করা যায় না। তবে ব্ল্যাকহোলের চারপাশের এই ধাতব উপস্থিতি গ্যাসকে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। আর এই শীতল হওয়ার গতিই নির্ধারণ করে দেয় কীভাবে গ্যাসীয় উপাদানগুলো ব্ল্যাকহোলের ভেতরের দিকে আকৃষ্ট হবে।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের এই অভিনব আবিষ্কার মহাবিশ্বের অন্যান্য দূরবর্তী গ্যালাক্সির ব্ল্যাকহোলের চারপাশের ধাতব বণ্টন প্রক্রিয়া বুঝতে বিজ্ঞানীদের পথ দেখাবে। একই সঙ্গে মহাজাগতিক বিবর্তনের ধারায় কীভাবে পৃথিবীতে ভারী মৌলগুলো এসে পৌঁছাল, সেই জটিল প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com