• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

টিআইএন থেকে আয়কর রিটার্ন, তরুণদের যা জানা জরুরি

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: পেশাজীবনে পা রাখতেই তরুণদের সামনে করসংক্রান্ত নানা দায়িত্ব ও হিসাব-নিকাশ চলে আসে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েন। অনেকের মনেই ভুল ধারণা থাকে যে টিআইএন নম্বর নিলেই বুঝি বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর দিতে হবে কিংবা কম আয় হলে কোনো আইনি দায়িত্ব থাকে না। অথচ প্রকৃতপক্ষে আয়ের উৎস, ধরন এবং নির্দিষ্ট বিধানের ওপর ভিত্তি করেই করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয়ে থাকে। তাই পেশাজবিনের শুরু থেকেই কর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দেওয়া ১২ ডিজিটের টিআইএন মূলত একজন করদাতাকে শনাক্ত করার একটি মাধ্যম মাত্র। এটি থাকার অর্থ এই নয় যে ব্যক্তিকে সরাসরি কর প্রদান করতে হবে, কারণ করমুক্ত সীমার কারণে অনেকের প্রদেয় কর শূন্য হতে পারে। আবার করযোগ্য আয় না থাকলেও আইনগতভাবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থেকে যায়। অন্যদিকে, ফ্রিল্যান্সার বা ডিজিটাল সেবা প্রদানকারীদের ক্ষেত্রে আয়ের ভিন্নতা অনুযায়ী হিসাবরক্ষণের পদ্ধতিও আলাদা হয়ে থাকে। তাই অনলাইনভিত্তিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে সবার জন্য একই করব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে এমন ধারণা একেবারেই সঠিক নয়।

সঠিক হিসাব সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের ক্লায়েন্টের সঙ্গে চুক্তি, ইনভয়েস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং পেশাগত খরচের রসিদ সংরক্ষণ করা উচিত। অন্যদিকে ছোট আকারের ব্যবসা হলেও উদ্যোক্তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের চালান, কর্মচারীর বেতন এবং ভাড়ার রসিদের মতো সব ধরনের আর্থিক নথি গুছিয়ে রাখতে হবে। ব্যক্তিগত ব্যয়ের সঙ্গে ব্যবসার হিসাব মিশে গেলে প্রকৃত আয় নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে রিটার্ন তৈরিতে জটিলতা তৈরি করে। উৎসে কর কর্তন করা হলে তার যথাযথ প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা এবং তা রিটার্ন দাখilos-এর সময় সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি।

আয়কর রিটার্ন কেবল কর পরিশোধের মাধ্যম নয়, এটি একজন নাগরিকের আর্থিক অবস্থার একটি আনুষ্ঠানিক নথিও বটে। অনেকেই মনে করেন যে কর না এলে রিটার্ন দেওয়ার প্রয়োজন নেই, যা সব ক্ষেত্রে সত্য নয়। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের জন্য বিভিন্ন সময়ে কর অব্যাহতি দিলেও তা সব আয়ের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না। তাই সারা বছরের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের সঠিক হিসাব সাজিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা উচিত। সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা একজন তরুণ পেশাজীবীর পথচলাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তোলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com