• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বললেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে’ মধ্যবিত্তের ডিম খাওয়া অর্ধেকের বেশি কমেছে: নাহিদ ইসলাম দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতকে কাজ করতে হবে: জুবায়ের ময়মনসিংহে চুরখাই খালের মরণদশা: দখল-বর্জ্যে বন্ধ পানিপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়বে দুই সমুদ্রবন্দর পূর্বনির্ধারিত স্থানেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দাবি পাহাড়ের জাতিগোষ্ঠীকে বাঙালি বলার অধিকার কারও নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি আবার শুরু ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রকল্প একনেকে উঠছে ৩ নভেম্বর সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন জাইনীন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়বে দুই সমুদ্রবন্দর

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের দুই প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলায় প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকাশিত ‘বাড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকি: সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক শতাব্দীতে এই দুই বন্দরের মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রলয়ংকরী সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস এবং ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বন্দরগুলোর অবকাঠামো ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এডিবি জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রবন্দরগুলোর পরিচালনাগত সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিকেও ঝুঁকিতে ফেলবে। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এই অঞ্চলে আর্থিক ক্ষতির শীর্ষ তালিকায় রাখা হয়েছে ভারতকে, যাদের সম্ভাব্য ক্ষতি ২৫৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। এছাড়া ৩৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম জানান, একদিকে উপকূলীয় ভূমির অবনমন ঘটছে এবং অন্যদিকে দ্রুত বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। উপকূলীয় অঞ্চলে সুরক্ষার জন্য অতীতে যে ১৬২টি পোল্ডার নির্মাণ করা হয়েছিল, সেগুলোতে বর্তমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রাখা হয়নি। যদিও বর্তমান সরকার জলবায়ুসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দিচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা এখনও বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাবে কেবল বন্দর বা অর্থনীতিই নয়, চরম হুমকির মুখে পড়তে চলেছে উপকূলীয় জনপদ। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তীব্র বন্যা, সুপেয় পানির সংকট এবং কৃষি উৎপাদন হ্রাসের কারণে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এই বাস্তুচ্যুতির প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হওয়ায় অনেক সময় তা যথাযথ নজর কাড়ে না, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো নিজেদের সমাজ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হারিয়ে ফেলছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আশপাশের মাঝারি শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনবসতি ও অবকাঠামো বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com