• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর তাগিদ

Reporter Name / ৮ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশের রাজনীতিতে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন নারী সংসদ সদস্যরা। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর সব স্তরে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার যথাযথ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের সংগ্রামী নারী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ও বাইরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী সংসদ সদস্য ছাড়াও দেশের প্রথিতযশা নারী নেত্রীরা উপস্থিত থেকে তাঁদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান বলেন যে, নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে নারীরা নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে সামগ্রিক ক্ষমতায়ন অর্জন সম্ভব হবে না। প্রান্তিক নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে এবং কন্যাশিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শুধু সংখ্যাগত উপস্থিতি বাড়ালেই চলবে না, বরং নারীর গুণগত ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন যে, প্রকৃত নারী ক্ষমতায়ন বলতে দেশের সর্বস্তরের নারীর উন্নয়ন বোঝায়, যা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোতে বংশপরম্পরা বা পরিবারতন্ত্রের প্রভাব কমিয়ে মাঠপর্যায়ের সংগ্রামী ও পরীক্ষিত নারী কর্মীদের নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের নানা সামাজিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য মাধবী মারমা বলেন, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা নারী কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, নানা আন্দোলন-সংগ্রামে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। সরাসরি নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোতে নির্ধারিত ৩৩ শতাংশ কোটা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিকট জবাবদিহি থাকা আবশ্যক বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া সংসদ সদস্য আন্না মিনজ উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রগতি ঘটলেও তার গতি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে বেশ ধীর।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন যে, বর্তমান নারীদের আজকের এই অবস্থান দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ফসল এবং বেগম রোকেয়া থেকে শুরু করে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ও সুফিয়া কামালের আদর্শ অনুসরণ করেই এই আন্দোলন এগিয়ে চলেছে। সামাজিক কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নারীর মানবাধিকার এখনো সমাজে পূর্ণ স্বীকৃতি পায়নি এবং এই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সামাজিক সংস্কৃতির রূপান্তর প্রয়োজন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু তাঁর লিখিত বক্তব্যে জাতীয় সংসদে নারীর আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিটি স্তরে ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীর মনোনয়ন আনুপাতিক হারে বাড়ানো, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি এবং নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার ও সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ফরিদা ইয়াসমিন, শিরীন সুলতানা, রেজেকা সুলতানা, জহরত আদিব চৌধুরী, ফাহমিদা হক, নেওয়াজ হালিমা আরলী, রাশেদা বেগম হীরাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট নারী সংসদ সদস্য ও নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একবাক್ಯ স্বীকার করেন যে, রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির স্বার্থেই রাজনীতিতে নারীর সমতাভিত্তিক ও সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com