• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য সাড়ে ৪ কোটি পরিবার

Reporter Name / ১০ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করবে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। পাইলটিংয়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এখন পুরো দেশজুড়ে এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের আনুমানিক চার কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে ধরে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে বিশেষায়িত ট্যাবলেট এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে যুক্ত থাকছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপনের মতো প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

নারী ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সরকারের অন্যতম অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডগুলো সরাসরি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ করা প্রক্সি মিন্স টেস্ট বা পিএমটি পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আয়ের সরাসরি হিসাবের পরিবর্তে পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিশ্লেষণ করে অতিদরিদ্র থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা বা কম স্কোর পাওয়া পরিবারগুলোর নারীপ্রধানদের এই কার্ড ও নিয়মিত ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেই নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকাই সরাসরি ভাতা বাবদ বিতরণ করা হবে। উপকারভোগীদের হাতে যে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে তাতে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসির মতো আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা থাকবে। কার্ডগুলো সরকারের টাকাপেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকায় উপকারভোগীরা অত্যন্ত সহজে এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের ভাতার অর্থ তুলতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা পুরো কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com