রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরের জনপদ রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের দীর্ঘ যাত্রা বা লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দেশবাসীর মনোযোগ আকর্ষণকারী এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সম্প্রতি নতুন একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি যুক্ত করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই লংমার্চ চলাকালীন পথিমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট সাতটি বড় জমায়েত ও পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব জনসভার মাধ্যমে আয়োজকরা সাধারণ মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক বার্তা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন।
উক্ত লংমার্চের মূল কর্মসূচি ও রূপরেখা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে আগে থেকেই বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কর্মসূচির সঙ্গে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই সংযোজনটি হলো উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়ন করা। ফলে এখন এই লংমার্চের ঘোষিত দাবির সংখ্যা বেড়ে মোট আটটিতে উন্নীত হয়েছে, যার মধ্যে তিস্তা ইস্যুটি এখন সামনের সারিতে চলে এসেছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনযাত্রা ও কৃষির সঙ্গে তিস্তা নদীর অববাহিকা সরাসরি জড়িত থাকায় এই নদী রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখেই ১১ দলীয় ঐক্য এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিটিকে তাদের মূল এজেন্ডায় নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা ইস্যুকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করায় উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী লংমার্চের বহরটি ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট অতিক্রম করে রংপুরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং পথিমধ্যে স্থানীয় জনতা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। প্রতিটি পথসভা ও সমাবেশে জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সরকারের নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরছেন। এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের উত্তর জনপদের রাজনীতিতে একটি নতুন গতি আসবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।