একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রতিটি নাগরিক কিংবা রাজনৈতিক দলের ভিন্ন মত পোষণ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সব মানুষের চিন্তা বা বক্তব্যের সঙ্গে সবসময় একমত হওয়া আবশ্যক নয়। তবে ভিন্ন মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্যকে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
কোনো সমালোচনা সামনে এলে তা বিরক্তিকর মনে করে এড়িয়ে যাওয়া বা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়। সমালোচনাকে যদি গঠনমূলক হিসেবে দেখা যায়, তবে তা যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভুলত্রুটি সংশোধন করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি কাজের মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। সমালোচনা শোনার ধৈর্য না থাকলে সমাজে একপেশে ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই সব পক্ষকে খোলামেলা আলোচনা ও ভিন্ন মতগ্রহণের মানসিকতা বাড়াতে হবে।
সার‑সংক্ষেপে বলা যায়, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছাড়া একটি সুস্থ সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সমালোচনাকে প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার না বানিয়ে বরং ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে গণ্য করা উচিত। এই মানসিকতা অর্জিত হলেই কেবল প্রকৃত গণতন্ত্রের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।