আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হঠাৎ করে বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে কিছুটা বিরতি এনে দিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে এই বৈঠক বাতিল হওয়া নিয়ে ইতোমধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে এই বিশেষ বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষে বিভিন্ন কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের উপনির্বাচন যাতে ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও ভীতিহীন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা ছিল কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের এই পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজেদের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করে এনেছিল বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রস্তুতি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। সাধারণত যেকোনো বড় নির্বাচন বা উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, র্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে এ ধরনের সমন্বয় সভা করে থাকে। এই বৈঠকের মাধ্যমেই মূলত মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং ভোটকেন্দ্রের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার রূপরেখা তৈরি করা হয়ে থাকে।
বাতিল হওয়া এই বৈঠকটি আগামীতে আবার কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে বা নির্বাচন কমিশন নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নতুন করে বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন তাদের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে তারা শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।