• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া রাসেল লজ অবসায়নে আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায় মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না তখন নিজেরাই প্রতিরোধ শুরু করে: নাহিদ ইসলাম কেয়ামতের ছোট ৫ আলামত: নবীজির দৃশ্যমান ভবিষ্যদ্বাণী নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার পুনর্বাসনের আলোচনার আগে নিষিদ্ধ আ.লীগের বিচারের দাবি জানালেন হাসনাত আবদুল্লাহ কাগজে কলমে ২ বালুমহাল ইজারা শ্রীমঙ্গলে, বাস্তবতা ভিন্ন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দৃষ্টিতে ২০২৭ সালে ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সেরা ২৫টি গন্তব্য রান্নার হাঁড়ি থেকেই খাবারে মিশছে সিসা, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ গবেষণা বিএসএসপি বিশ্ব শান্তি কুঠিরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দানোত্তম কঠিন চীবর দান

৭ নভেম্বর: কী ঘটেছিল, কী দেখেছিলাম

Reporter Name / ২০ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নাটকীয় মোড় পরিবর্তনকারী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই উত্তাল মধ্যরাতে চারদিকে গোলাগুলির শব্দ এবং নানা স্লোগানের মধ্যে ঘুম ভেঙেছিল তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের। সেসময়ের বিভিন্ন সামরিক তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর লেখা রক্তিম দিনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঢাকা সেনানিবাস একটি অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছিল।

ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনানিবাসের প্রধান সড়কে নেমে আসে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা। সৈনিকদের পাশাপাশি অস্ত্রধারী কিছু বেসামরিক তরুণ ট্রাক ও জিপে চড়ে স্লোগান দিতে দিতে চারদিকে মহড়া দিতে শুরু করে। সেসময়ে সিপাহি ও কর্মকর্তাদের মধ্যকার ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়ার স্লোগান এবং বিভিন্ন স্থানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার গার্ডে বন্দি করার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মূলত কর্নেল তাহেরের গড়া বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও গণবাহিনীর সদস্যরা এই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিল, যা তৎকালীন নবীন রাষ্ট্রটিতে এক ধরনের গৃহযুদ্ধের আবহ তৈরি করেছিল।

তৈরি হওয়া এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দ্বিতীয় ফিল্ড রেজিমেন্টে নিয়ে আসা হয়। সেখানে উপস্থিত থেকে তিনি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। খালেদ মোশাররফের বঙ্গভবন ত্যাগ করার পর জিয়াউর রহমান শাফায়াত জামিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার বার্তা পৌঁছে দেন। এদিকে কর্নেল তাহের চেয়েছিলেন জিয়াকে সামনে রেখে তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে।

তবে জিয়াউর রহমান খুব দ্রুতই কর্নেল তাহেরের সেই অভিলাষ বুঝতে পেরে তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও ত্বরিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সেনানিবাসগুলোতে ঘুরে ঘুরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেন। সাধারণ সৈনিকদের অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তাঁর বিচক্ষণতা ও ব্যক্তিত্বের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্ভূত নাজুক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে এবং দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নতুন এক মোড় নেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com