গণমাধ্যম ডেস্ক: দক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকল্প নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো। সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে ঢাকা ও সারা দেশ থেকে আসা সর্বস্তরের কর্মীরা অংশ নেন। সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেদের দ্রুত খাপ খাইয়ে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হয়ে ওঠা এবং সত্যানুসন্ধানে অটল থাকার ওপর বিশেষ জোর দেন সংবাদমাধ্যমটির কর্মীরা। সকাল থেকেই নবীন ও প্রবীণ কর্মীদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন চত্বরে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং সব ধরনের বাধা পেরিয়ে সত্য প্রকাশে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, অতীতে কোনো অপশক্তির কাছে আপস না করার নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনায় প্রথম আলোর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
কর্মী সম্মেলনের বিশেষ একটি পর্বে ছাপা পত্রিকা থেকে শুরু করে অনলাইন, ডিজিটাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবর্তিত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ জানান, পাঠকদের অভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হলে ডিজিটাল মাধ্যমকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়।
সমাপনী বক্তব্যে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও বাধা অতীতেও এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আসতে পারে, তবে কোনো বাধাই তাদের দমে যাওয়ার কারণ হবে না। সত্যের প্রতি অঙ্গীকার এবং পাঠকদের আস্থাই তাদের মূল শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেরা কর্মীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই আনন্দঘন বর্ষপূর্তি উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।