• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
সিরাজগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার পুলিশ থাকার পরেও বিএনপির নেতা–কর্মীরা কেন লাঠিসোঁটা নিয়ে নামছেন, প্রশ্ন এবি পার্টির আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম সার পাচার ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ কারও ড্রেসআপ ঠিক নেই, এরা চিকিৎসক, নার্স না কি দালাল: ঢামেকে অভিযানে দুদক চেয়ারম্যান কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণ করবে মজুরি বোর্ড: প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ভোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল থেকে আটক ৩: পুলিশ রোনালদোকে নিয়ে সৌদি সাংবাদিকের দাবিতে তুমুল বিতর্ক

ফুলবাড়ীয়ায় ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে। উপজেলার মোট তেপ্পান্নটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে সাতাশটি ভবনের অবস্থাই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। জরাজীর্ণ ও বেহাল দশা হওয়ায় এর মধ্যে কয়েকটি ক্লিনিক পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ভাড়া করা ঘর কিংবা বারান্দায় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও এসব ক্লিনিকে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেশপুর বাজার, নাওগাঁও ইউনিয়ন এবং পৌরসভার লাহিড়ীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নেওয়া কক্ষে চলছে। লাহিড়ীপাড়া ক্লিনিকটির মূল ভবন দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকে ফোরকানিয়া মাদরাসার একটি ক্ষুদ্র কক্ষে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সংকীর্ণ ওই কক্ষটিতে ওষুধপত্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও সহকারীরাও বসেন। একই চিত্র মহেশপুর বাজার ও নাওগাঁও ক্লিনিকেও। বহু বছর আগে ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় বাজারের আশপাশে ঘর ভাড়া নিয়ে বা টিনের ছাপড়া তুলে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে নামমাত্র খরচে সেবা দেওয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও এই ক্লিনিকগুলোতে উল্টো রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। ঘর ভাড়া, আয়ার বেতন, বিদ্যুৎ বিল এবং প্রয়োজনীয় খাতা-কলম কেনার খরচ মেটানো হয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে। ক্লিনিকে আসা রোগীরা জানান, বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হচ্ছে। মহেশপুর ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী জানান, বাধ্য হয়ে রোগীদের কাছ থেকে সামান্য টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা আপত্তি তুললে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাও ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীয়ার মোট তেপ্পান্নটি ক্লিনিকের মধ্যে বিশটি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরও সাতটি ভবন মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জরাজীর্ণ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে, দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক ভবনের ছাদের ঢালাই নষ্ট হয়ে রড বেরিয়ে গেছে, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে ভেতরের ওষুধ ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে অনেক স্থানে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com