• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ইরান যুদ্ধ ঘিরে চাপে ট্রাম্পের দল

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান সংঘাত অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদের মতে, ইরান সংঘাত এখন কেবল পররাষ্ট্রনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। মিশিগানে অনুষ্ঠিত সিনেট নির্বাচনেও এর স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেছে, যেখানে প্রার্থীরা পররাষ্ট্রনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়েই বেশি বিতর্কে লিপ্ত হন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযان শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ও পেট্রলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের আগের তুলনায় পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালনে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক জরিপেও উঠে এসেছে যে, বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন। ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই যুদ্ধ তাদের সংসারের বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থক রিপাবলিকান প্রার্থীরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে বাধা দেওয়ার যুক্তিতে এই সংঘাতের পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিপরীতমুখী রিপোর্টের কারণে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে এবং কোনো কোনো প্রার্থী দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক পদক্ষেপকে তাঁর প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করে চলেছেন এবং নির্বাচনের পর প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করতে কংগ্রেসে আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

জনমত জরিপগুলো থেকে জানা যায় যে, সামগ্রিকভাবে রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি বড় অংশ এখনো এই সংঘাতের পক্ষে থাকলেও তাদের মধ্যে আগের মতো অন্ধ সমর্থন বা দৃঢ়তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। দলটির ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে অনীহা তৈরি হওয়া আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটরা এই অর্থনৈতিক ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পররাষ্ট্রনীতির এই ইস্যুটি যেভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে, তাতে নির্বাচনী ফলাফলে এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় পক্ষই এই স্পর্শকাতর ইস্যুটিকে সামাল দিতে নিজেদের কৌশল নতুন করে সাজাতে বাধ্য হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com