• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে গোলাম আযমের অবদানকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এক ভ্রমণকণ্যার ভয় জয় করে পৃথিবী দেখা | তাঁHER কথা | পর্ব–০৭ পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন গরুর মাংস খেতে মহানবী (সা.) কেন নিরুৎসাহিত করেছেন ৯ বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান, টিকিটের মূল্য ১০ টাকা সৌদিতে ‘দণ্ডপ্রাপ্তদের’ তালিকায় আরও ২০ বাংলাদেশি, নজরুল-সুইটির মতো তাঁদের শাস্তিও জানায়নি দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠাতে প্রতিমন্ত্রী নূরের বৈঠক সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি, হুমকিতে দেশের ব্যাংক-সরকারি পোর্টাল চৌদ্দগ্রামে ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেল ২২ শিশু স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা শুক্রবার

তুরস্কের প্রস্তর যুগের জনপদে ১১ হাজার বছর আগের মানুষের গল্প

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে প্রস্তর যুগের এক প্রাচীন জনপদের সন্ধান মিলেছে, যা প্রায় এগারো হাজার বছর আগের মানবজীবন ও সংস্কৃতির নানা অজানা দিক উন্মোচন করেছে। তাওরাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত সায়বুরচ গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাগানের দেয়াল নির্মাণের সময় প্রথম এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর হদিস পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ব্যাপক অনুসন্ধানে উঠে আসে যে এই পাথরগুলো কৃষিপূর্ব যুগের শিকারি-সংগ্রাহক জনগোষ্ঠীর নির্মিত প্রাচীন স্থাপনার অংশবিশেষ। গবেষকদের মতে, প্রাগৈতিহাসিক এই জনপদের ধ্বংসাবশেষ তৎকালীন মানুষের সামাজিক রীতিনীতি, বিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার রূপরেখা বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুরোদমে খননকাজ শুরুর পর সেখানে প্রায় সত্তরের অধিক নিওলিথিক বা নব্যপ্রস্তর যুগের স্থাপনার সন্ধান মিলেছে। এসব কাঠামোর মধ্যে সাধারণ বসবাসের ঘরের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত সামষ্টিক ভবনও রয়েছে। ওই স্থান থেকে উদ্ধার করা পাথরের পাত্র ও শস্য পেষার নানা সরঞ্জাম প্রমাণ করে যে প্রাচীন মানুষেরা তখন বুনো শস্য প্রক্রিয়াজাত করার পাশাপাশি সম্ভবত বিয়ার তৈরিতেও অভ্যস্ত ছিল। এই আবিষ্কারগুলো সেকালের মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং তাদের জীবনযাত্রার প্রযুক্তিগত অগ্রগতির স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থলের অন্যতম আকর্ষণীয় আবিষ্কার হলো একটি সামষ্টিক ভবনের পাথরের বেঞ্চে খোদাই করা অত্যন্ত নিখুঁত কিছু চিত্রকর্ম। সেখানে মানব অবয়বের পাশাপাশি ষাঁড় ও চিতাবাঘের খোদাই করা রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বর্ণনাধর্মী দৃশ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লিখিত ভাষার প্রচলন না থাকায় এই প্রকাশ্য শিল্পকর্মগুলো প্রাচীন জনগোষ্ঠীর গল্প, ঐতিহ্য এবং সামাজিক নিয়মাবলী পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। দৃশ্যগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নানা মতভেদ থাকলেও এগুলো যে তখনকার মানুষের সম্মিলিত স্মৃতি ও বিশ্বাসের পরিচায়ক, সে বিষয়ে সবাই একমত।

এছাড়াও সায়বুরচের এই প্রাচীন জনপদে মৃতদেহ সমাহিত করার অদ্ভুত কিছু রীতির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। অনেক ক্ষেত্রে বসতঘরের মেঝের নিচেই মৃত ব্যক্তিদের কবর দেওয়া হতো এবং বেশ কিছু কবরে মানুষের হাড়ের সঙ্গে প্রাণীর হাড়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মুখ বন্ধ বা সেলাই করা একটি ক্ষুদ্র মানবমূর্তি আবিষ্কারের ফলে প্রাচীন মানব সমাজের মৃত্যু-সম্পর্কিত দর্শন ও বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে একটি উন্মুক্ত জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com