• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

তরুণদের চাকরির বাজারে এআইয়ের ছায়া

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে তরুণদের চাকরির বাজারে এক ধরনের বড় ধাক্কা লেগেছে। সাধারণ ধারণায় মনে করা হয় যে প্রযুক্তি-বান্ধব তরুণ প্রজন্ম এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হবে, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বছরে দেশটিতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণদের কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অথচ একই সময়ে বয়স্ক ও অভিজ্ঞ কর্মীরা এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মক্ষেত্র আরও সুসংহত করেছেন, যা শ্রমবাজারে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকেও বৈশ্বিক তরুণ বেকারত্বের এই উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এশিয়া ও এর বিভিন্ন অঞ্চলে এআই-ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোতে তরুণ কর্মীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি থাকায় তাদের ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এন্ট্রি-লেভেল বা প্রারম্ভিক স্তরের বিশ্লেষণাত্মক ও কেরানিসুলভ পদগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার কারণে নতুন স্নাতকদের জন্য চাকরি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ঐতিহ্যগত ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এখন আর পেশাগত নিরাপত্তার নিশ্চিত নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এই সংকটের মাত্রা আরও বহুমুখী রূপ নিয়েছে। ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণ করলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে বাজারের বাস্তব চাহিদার এক বিরাট ব্যবধান রয়ে গেছে। এর ফলে নিয়োগকর্তাদের বাধ্য হয়ে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কাজের জন্য নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলার তীব্র মানসিক চাপ এবং উদ্বেগও তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন পেশাজীবনকে ব্যাহত করছে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তরুণদের একটি বড় অংশ এমনিতেই কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে অবস্থান করছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। এর ওপর প্রাথমিক ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণের অভাব বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অর্থনীতির সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।

তবে সামগ্রিক চিত্র কেবল হতাশাজনক নয়, কারণ সঠিক নীতিমালা এবং উপযুক্ত দক্ষতার সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। ব্র্যাকের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ক্যারিয়ার মেলাগুলোতে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও চাকরি পাওয়ার সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক প্ল্যাটফর্ম পেলে তারা নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারলে এবং তরুণ প্রজন্মকে এআই ব্যবহারের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে পারলে এই সংকট অনেকাংশেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com