অর্থনীতি ডেস্ক: প্রায় তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্প বা সিডিপিএল জ্বালানি তেল পরিবহনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। আগে নৌপথে তেল পরিবহনে প্রায় দুই দিন সময় লাগলেও এই আধুনিক পাইপলাইনের মাধ্যমে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তা নারায়ণগঞ্জে পৌঁছে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই ব্যবস্থার ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি এসেছে এবং সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অধীনে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে তেল পরিবহন আগের তুলনায় বহুগুণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে।
প্রাথমিক সফলতা সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং সুষ্ঠু পরিচালনা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির অনুমোদিত জনবলকাঠামোতে ২৫১টি পদ থাকলেও বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন মাত্র ৬৯ জন কর্মী। বিশেষ করে প্রকৌশল এবং অপারেশন ও প্লানিং শাখায় চরম শূন্যতা বিরাজ করছে। প্রকৌশল বিভাগে ১১৯ জনের স্থলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩১ জন এবং অপারেশন ও প্লানিং শাখায় ৮৭ জনের বিপরীতে কাজ করছেন মোটে ৩০ জন। জনবলের এই তীব্র ঘাটতির কারণে আধুনিক এই পাইপলাইনের নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিমাণও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পতেঙ্গার প্রধান ডিপোগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের ৮৪টি চালান সফলভাবে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছর জুলাই মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তিন তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মোট ৫ লাখ ৩৮ হাজার টন জ্বালানি তেল নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের সুফল হিসেবে প্রতিবছর প্রায় ২২৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ঘণ্টায় প্রায় ৩৪৬ টন ডিজেল চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে স্থানান্তরের সক্ষমতা রয়েছে। সিডিপিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জনবলসংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, এটি অত্যন্ত আধুনিক একটি প্রযুক্তি এবং এর সুফল টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য। তবে এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পে এমন সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দ্রুত না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।