• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে দূতাবাস দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য সাড়ে ৪ কোটি পরিবার সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে অতি জরুরি বিজ্ঞপ্তি রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ইউরোপে জনশক্তি পাঠাতে ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মাহ্দী আমিনের বৈঠক পটুয়াখালীর সড়কটি কাগজে-কলমে পাকা, বাস্তবে কাঁচা অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করবে বাংলাদেশ-ইইউ নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ সংবিধান সংশোধন: রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় বিচার বিভাগ থাকুক চালকবিহীন ট্যাক্সি এখন বাস্তবতা নাকি বাড়তি ঝুঁকি

২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ অযৌক্তিক

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নথিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে দেশে যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে তার পেছনে মূলত ভুল নীতি, কার্যকর সিদ্ধান্তহীনতা, দুর্নীতি এবং মারাত্মক অব্যবস্থাপনা দায়ী। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই বিশাল অংকের অর্থ গচ্চা গেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের জ্বালানি খাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জানানো হয় যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বারো হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও গ্যাস সংকটের কারণে প্রকৃত উৎপাদন চার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এছাড়া কয়লা এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও একই রকম ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্বালানি খাতের নানা অনিয়মের কঠোর সমালোচনা করেন। কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান জানান, আইন অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণের কথা থাকলেও গত দুই দশকে কেন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রবিধান তৈরি করা হয়নি, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেনি। এছাড়া কমিটির আরেক সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ডিজেলের অপ্রতুল মজুত এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এলপিজির চড়া দাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক বেশি ব্যয় ধরার বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত ফরেনসিক অডিট করার জোর দাবি জানান।

এই সংকট উত্তরণে মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে তিন ধাপের একটি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুতে প্রণোদনা প্রদান, শুল্ক হ্রাস এবং দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ত্রিশ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে। আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপে তিন হাজার মেগাওয়াটের এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা এবং আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে স্থায়ীভাবে টেকসই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com