• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বিএনপির নেতাকর্মীদের ফ্যাসিবাদী আচরণ না করার আহ্বান রিজভীর ব্যাংককে শুরু আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা: সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ২১ জানুয়ারি আনোয়ারায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতার দখল থেকে ২৪ একর খাসজমি উদ্ধার সুদহারের সীমা মানছে না ৫৬ ব্যাংক সংসদে মিষ্টির শূন্য আসনে কে বসছেন, চেনা মুখ–তৃণমূল নেত্রীরাও তৎপর জিএম কাদেরের বাসার সামনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার দাবি ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংকের ‘ডিজিবক্স’ সেবা, চেক বই ও কার্ড তোলা যাবে ২৪ ঘণ্টা খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে হালাল অর্থনীতি গ্যাসট্রিকস

সুদহারের সীমা মানছে না ৫৬ ব্যাংক

Reporter Name / ১২ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ব্যবধান বা স্প্রেড সর্বোচ্চ চার শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারির দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দেশের অর্ধেকের বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত এই সীমা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে দেশের মোট ছাপ্পান্নটি ব্যাংকের স্প্রেড চার শতাংশের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ী সমাজ ও বিভিন্ন শিল্পোদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার মূল উদ্দেশ্যটি বর্তমানে থমকে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড এবং নির্দিষ্ট কিছু ভোক্তা ঋণ বাদে সার্বিক ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড ছিল পাঁচ দশমিক সাতান্ন শতাংশ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গড় ব্যবধান ছিল পাঁচ দশমিক ছত্রিশ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তা দাঁড়ায় পাঁচ দশমিক আটান্ন শতাংশ। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো চার দশমিক শূন্য দুই শতাংশ স্প্রেড বজায় রাখলেও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর গড় হার আট দশমিক কুড়ি শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। মূলত আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হার নির্ধারণ করায় এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের গতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিশ্লেষক ও ব্যাংক নির্বাহীদের মতে, পর্যাপ্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যাংক বর্তমানে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট রক্ষণশীল ভূমিকা পালন করছে। এর পাশাপাশি অতীতে উচ্চ সুদে সংগৃহীত আমানত এবং পূর্বে বিতরণ করা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যকার ব্যবধান রাতারাতি কমিয়ে আনা ব্যাংকগুলোর জন্য বেশ দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকগুলোর এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া নিয়মের মধ্যে স্প্রেড নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিশেষভাবে বিদেশি খাতের নয়টি ব্যাংকের একটিও এই নির্ধারিত সীমার ভেতরে থাকতে পারেনি, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড সর্বোচ্চ নয় দশমিক তিয়াত্তর শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং বেসিক ব্যাংকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত সীমার ওপরে অবস্থান করছে। একইভাবে বেসরকারি খাতের তেতাল্লিশটি ব্যাংকের মধ্যে চল্লিশটি ব্যাংকই চার শতাংশের এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয়েছে, যার মধ্যে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের স্প্রেড সর্বোচ্চ নয় দশমিক তিপান্ন শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মাত্র পাঁচটি ব্যাংক এই নিয়ম সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক তাদের স্প্রেড চার শতাংশের সীমার মধ্যেই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com