জাতীয় ডেস্ক: দেশের প্রধান জাতীয় মাছ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং এর বংশবৃদ্ধির পথ সুগম করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আয়োজিত এক বিশেষ সচেতনতা সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই গুরুত্বীয় আহ্বান জানান। তিনি মূলত আসন্ন ২২ দিনের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা থেকে বিরত থাকার জন্য স্থানীয় জেলেদের প্রতি জোর অনুরোধ জানান।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিবচরের কাওরাকান্দি এলাকার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই সচেতনতা সভা ও ভিজিএফ চাল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে পদ্মাপাড়ের অসহায় ও নিবন্ধিত ১৫১টি জেলে পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় এলাকার দরিদ্র জেলেদের জীবনযাত্রা ও সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া নানা সহায়তামূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে একটি ছোট আকারের মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তা থেকে প্রায় দুই লাখ এবং একটি বড় ইলিশ থেকে ২০ লাখেরও বেশি নতুন ইলিশের পোনা জন্ম নিতে পারে। দেশের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সব নাগরিকের রয়েছে বলে তিনি দৃঢ় মন্তব্য করেন।
নিষেধাজ্ঞার সময়কার কষ্টের কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জেলেদের আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে পরবর্তীতে ইলিশের প্রাচুর্য বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেরা নিজেরক্ষেই এর সুফল ভোগ করবেন। তাই সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সচেতনতা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দীন আহম্মেদ হানজালা ও মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলার পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।