বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচনের কথা থাকলেও এক দশক ধরে তা হচ্ছে না। চলতি বছর কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেটিও পিছিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলীয় সূত্র বলছে, স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ শতাধিক পদ শূন্য রয়েছে। মৃত্যু, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ও অন্যান্য কারণে এসব পদ খালি হয়েছে। এসব পদ পূরণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পদোন্নতি বা নতুন দায়িত্ব বণ্টনের জন্য যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে চলছে যাচাই-বাছাই।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হতে আরও সময় লাগবে। কাউন্সিল না হওয়ায় দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরও অনেকেই কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদ, ভাইস চেয়ারম্যানসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণে নেতাদের নাম নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। দায়িত্বশীল নেতারা শূন্য পদগুলোয় নেতৃত্ব বাছাইয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
তারা জানান, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের তালিকা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে দক্ষতা দেখিয়েছেন এবং আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রয়েছেন-এমন
নবীন-প্রবীণ নেতাদের বিভিন্ন শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে যে কোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।
যদিও বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা মনে করেন, সাংগঠনিক সিস্টেমের মধ্যে যাচাই-বাছাই হলেও দলের প্রভাবশালী নেতাদের পছন্দের লোকেরাই মূলত পদোন্নতি পাবেন। প্রভাবশালীরা নিজস্ব বলয়ের নেতাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে চায়। এখানে বিগত আন্দোলনের ভূমিকা, দলের জন্য অবদান, যোগ্যতা বা ত্যাগের মূল্যায়ন তেমন একটা দেখা হয় না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কালবেলাকে বলেন, শূন্য পদ পূরণের কাজ চলমান রয়েছে। ধীরে ধীরে সব পদই পূরণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ ঘোষণা আসতে পারে বা দিনক্ষণ আগাম বলা কঠিন। তিনি বলেন, এসব শূন্য পদে সংশ্লিষ্ট কমিটির নিচের সারির পদধারী নেতাদের পদোন্নতি দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাহী কমিটি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হবে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এ কমিটিই দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের আগে ও পরে কয়েকটি পদে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় কমিটির এখনো ১০০টির বেশি পদ শূন্য। এ ছাড়া বয়সের কারণেও বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। এসব শূন্য পদ পূরণে কাজ চলছে। দলের সাংগঠনিক সিস্টেম অনুযায়ী নেতৃত্বের যাচাই-বাছাই চলছে। সবশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রায় এক মাসেও কারেও পদোন্নতি হয়নি।
এদিকে, আগামী বছরের শুরুতেও বিএনপির কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না অনেকেই। সূত্র বলছে, সেই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিয়ে দল ব্যস্ত থাকবে। আবার সারা দেশের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠনেও সময় লাগবে। ফলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে দলটির জাতীয় কাউন্সিল।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালবেলাকে বলেন, স্থায়ী কমিটিতে কিছুদিন আগে নতুন চারজনকে নেওয়া হয়েছে। শূন্য থাকা সম্পাদক, সহসম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পূরণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শূন্য পদে নেতৃত্ব বাছাইয়ে পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষা চলছে। দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে থেকে কিছু লোক এবং নিচের সারির কিছু লোক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সেই বিচার-বিবেচনায় তারা প্রমোশন পাবেন না। বাছ-বিচারের জন্য হয়তো বেশি সময় লাগছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু কালবেলাকে বলেন, একটা ঝঞ্ঝাট ও বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন সরকারপ্রধান ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাই দলের কাউন্সিল বিলম্ব হচ্ছে। এজন্য শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্য সাংগঠনিকভাবে একটা টিম কাজ করছে। সহসাই পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।
স্থায়ী কমিটিতে এখনো তিন পদ শূন্য: বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে ১৯ সদস্যের জাতীয় স্থায়ী কমিটির শুরুতেই দুটি পদ শূন্য ছিল। এরপর তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও জমির উদ্দিন সরকার মারা যান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান রাজনীতি থেকে অবসর নেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ায় গত ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ায় ১২ মার্চ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে গত ১৫ আগস্ট রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
দলীয় কাঠামোর হিসাব মতে, বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৬। ফলে তিনটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থতার কারণে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া স্থায়ী কমিটির বৈঠকসহ দলীয় কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন না। এই তিন পদে পদোন্নতির আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও জয়নুল আবদিন ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবেদিন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও নুরুল ইসলাম মনি।
ভাইস চেয়ারম্যানের ১৮ পদ ফাঁকা: সবশেষ কাউন্সিলে বিএনপির ৩৭ সদস্যের ভাইস চেয়ারম্যানের প্যানেল গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ওই প্যানেলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৮ জুন ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ মারা যান। এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মারা যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান।
সূত্রমতে, বর্তমানে বিএনপিতে ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন ১৮ জন। নির্বাচনের আগে কয়েকজনকে পদোন্নতি দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ পূরণ করা হলেও এখনো ১৮টি পদ ফাঁকা রয়েছে। আবার কয়েকজন অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন।
চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদেও শূন্য ১৭ পদ: বিএনপি চেয়ারম্যানের ৮৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদেও এখনো ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ সময়ে কয়েকজনের মৃত্যু ও পদোন্নতিতে এসব পদ খালি হয়েছে।
মারা যাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—হারুনার রশীদ খান মুন্নু, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, ফজলুর রহমান পটল, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাফরুল হাসান, অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক, রোজী কবির, লে. কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ, অ্যাডভোকেট কবির হোসেন, আখতার হামিদ সিদ্দিকী, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস ও আব্দুল মান্নান তালুকদার।
সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ইসমাইল জবিউল্লাহ, আমানউল্লাহ আমান ও ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. শামছুল আলম। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের তিন-চার সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও সহসম্পাদকের ২২ পদ খালি: বিএনপির ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতেও বেশ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটিও বর্তমানে শূন্য। গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন রুহুল কবির রিজভী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল অথবা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে আগে তিনজন দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে রয়েছেন মুনির হোসেন। নির্বাচনের আগে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সহদপ্তর সম্পাদক পদ থেকে তাইফুল ইসলাম টিপুকে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদকসহ দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করে বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলকে। তবে সহআইন বিষয়ক সম্পাদকের পদ এখনো শূন্য।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পরিষদেও একটি সম্পাদক ও দুটি সহসম্পাদকের পদ ফাঁকা রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির পদ থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক, সহপ্রচার সম্পাদক দুজন, যুববিষয়ক সম্পাদক, বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্পাদক, ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সহসম্পাদক, প্রশিক্ষণবিষয়ক সহসম্পাদক দুজন, ছাত্রবিষয়ক সহসম্পাদক, কৃষিবিষয়ক সহসম্পাদক, সমবায়বিষয়ক সম্পাদক, নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী সম্পাদক এবং প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদকের পদেও কেউ নেই।
নির্বাহী কমিটির ৪১ সদস্য পদ শূন্য: দলের ৩০০ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ৪১টি পদ শূন্য রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ৩৮ জন নেতা মারা গেছেন। তারা হলেন—মোজাহার হোসেন, জামাল শরিফ হিরু, মোকলেসুর রহমান বাবলু, রেজিনা ইসলাম, লাভলী রহমান, আলহাজ আবদুল মান্নান, আবুল হায়াত মো. শামসুল আলম, শহীদুন্নাহার কাজী হেনা, আলহাজ নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান তোতা, অ্যাডভোকেট খালেদা পান্না, শাহিদা আক্তার রিতা, খুররাম খান চৌধুরী, নুরজাহান ইয়াসমিন বুলবুল, অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, এস এ খালেক, মিঞা মোহাম্মদ সেলিম, শেখ আলী আশরাফ, সরওয়ার আযম খান, জিএম ফজলুল হক, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, আবুল কাশেম চৌধুরী, এম শহিদুজ্জামান বেল্টু, শাহানা রহমান রানী, চমন আরা বেগম, ড. মামুন রহমান এফসিএ, আলহাজ সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মো. মতিউর রহমান তালুকদার, গাজী নুরুজ্জামান বাবুল (বাবুল গাজী), আলহাজ রফিকুল ইসলাম মাহতাব, সাইফুল ইসলাম পটু, জহুরুল ইসলাম বাবু, মোকাদ্দেস আলী (কোকোর মামাশ্বশুর), নাদিম মোস্তফা, এফ এম ইকবাল, নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও এমএ মতিন। তবে দলীয় ওয়েবসাইটে শুধু চার-পাঁচজনের নামের পাশে মৃত্যুর কারণে পদ শূন্য হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
বিএনপি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন রবীন্দ্র লাল চাকমা ও বগুড়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানা। রবীন্দ্র লাল চাকমা পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কিন্তু তার নাম ওয়েবসাইটে রয়ে গেছে। আর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দলের অন্তত ১৫-১৬ জন নির্বাহী কমিটির সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশকে সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন স্তরে একসঙ্গে এতগুলো পদ শূন্য থাকায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড। তবে দলীয় পদগুলোতে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
সূত্র: কালবেলা