ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি আবাসিক ভবনের ওপরের তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ার মতো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হলের নবম তলা থেকে এক শিক্ষার্থী নিচে পড়ে গেলেও বরাত জোরে তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। এই আকস্মিক ঘটনায় পুরো হল পাড়ায় মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, নিচে পড়ার সময় ওই শিক্ষার্থী সরাসরি মাটিতে আছড়ে না পড়ে পাশের একটি টিনশেডের চালের ওপর গিয়ে পড়েন। সৌভাগ্যবশত টিনশেডের চালটি নিচে পড়ার বেগ কিছুটা কমিয়ে দেয়, যার ফলে তিনি মারাত্মক বা বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান। ঘটনার পরপরই হলের অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছেন যে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তাঁর শরীরে কোনো বড় ধরনের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন বা অভ্যন্তরীণ ক্ষতির লক্ষণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এত ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর শরীরে মানসিক বা শারীরিক কিছু ধাক্কা লেগে থাকতে পারে, যে কারণে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।
কী কারণে ওই শিক্ষার্থী হলের নবম তলা থেকে নিচে লাফ দিলেন, সে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা পুরো ঘটনাটির পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে কতটা চাপে রয়েছেন এবং আবাসিক হলগুলোতে তাদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।