রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় জুতার ভেতরে লুকিয়ে প্রায় সাড়ে নয় কেজি সোনা বহনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। অভিযুক্ত দুই বিমানকর্মী মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের ভেতরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতকে জানান যে, উদ্ধারকৃত সোনার মূল উৎস এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করার জন্য আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এদিনের শুনানিতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট রানওয়েতে অবতরণ করার পর ওই দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক ঠেকে। পরবর্তীতে তাদের তল্লাশি করা হলে জুতার ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় মোট ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার প্রতিটির ওজন ছিল প্রায় ১১৭ গ্রাম করে।
উদ্ধার হওয়া ৯ দশমিক ৩৪ কেজি ওজনের এই সোনাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা সার্কেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেভিনিউ অফিসার রুহানী ইসলাম বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক এমন বড় সোনা চোরাচালানের ঘটনায় বিমানকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।