• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
হোস্টেল মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর রাকসুর এক বছর: শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা রয়েই গেছে ২২ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার: ছেলে বললেন, ‘ফেসবুক দেখে জাজ করেন’ বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই শিশুর হাত ধরে স্কুলে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও সেপ্টেম্বর মাসে হামলা, গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৭০ সংবাদকর্মী পাকিস্তানে প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খুবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া গাজা-ইয়েমেনসহ ১২ সংকটে জাতিসংঘের ১৬ কোটি ডলার সহায়তা

রাকসুর এক বছর: শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা রয়েই গেছে

Reporter Name / ৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসু নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণকারী নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবার ও চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় বত্রিশ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক সুবিধা রয়েছে মাত্র দশ হাজারের মতো শিক্ষার্থীর, যার ফলে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস বা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বসবাস করতে হচ্ছে। ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় বিশ্বাসের মতো অনেকেই একাধিকবার আবেদন করেও হলের সিট পাননি, যা তাদের নিয়মিত পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।

নির্বাচনী ইশতেহারে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা এবং মেডিকেল সেন্টারকে কুড়ি শয্যায় উন্নীত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসাইনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের খাবারের মান আগের মতোই রয়ে গেছে এবং মাঝেমধ্যে প্রতিনিধিরা হল পরিদর্শন করলেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেনি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও জীবনরক্ষাকারী উপকরণের তীব্র সংকট থাকায় শিক্ষার্থীরা জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যদিও রাকসুর সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেছেন যে তাঁরা প্রশাসনকে মেডিকেল সেবা উন্নত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

আবাসন ও খাদ্যের পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থা এবং একাডেমিক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিভিন্ন রুটে বাস সংকট, অপর্যাপ্ত সময়সূচি, শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতা এবং পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে ছাত্র সংসদ নেতারা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যক্রমে বেশি সময় ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল এবং ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী উভয়েই উল্লেখ করেছেন যে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং ছাত্র সংসদের প্ল্যাটফর্মটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হলেও রাকসুর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। রাকসুর সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেছেন যে তাঁদের ঘোষিত ইশতেহারের সিংহভাগ বা প্রায় তিয়াত্তর শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকি কাজগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে অনাবাসিক ভাতাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। পঁয়ত্রিশ বছর পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান কার্যক্রমের ফলে সেই আগ্রহে ভাটা পড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা চরম হতাশা প্রকাশ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com