• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
৮ হাজার কোটির পাইপলাইন: চালুর আগেই শেষ গ্যারান্টির মেয়াদ বগুড়ার শেরপুর: হাজারো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র বহিষ্কার হওয়ার এক বছর পর জানা গেল, আম্মার ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ম্যাচের সঙ্গে থাকছে ফুটবলের রোমাঞ্চ ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজে ছুরিকাহত পাইলট ভারতীয়, ধন্যবাদ জানালেন নেতানিয়াহু নবীজির দৃষ্টিতে প্রকৃত বুদ্ধিমানের মানদণ্ড কী আজকের নামাজের সময়সূচি: ০১ অক্টোবর ২০২৬ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে উঠেছিলেন, পরে মিলল নারীর রক্তাক্ত লাশ ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীদের ফেরাতে সামরিক উড়োজাহাজ পাঠাতে চেয়েছিল ইসরায়েল, মানেনি সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আটক শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে: মাহদী আমিন

৮ হাজার কোটির পাইপলাইন: চালুর আগেই শেষ গ্যারান্টির মেয়াদ

Reporter Name / ০ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাগর থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল খালাসের জন্য প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম প্রকল্পটি নানা জটিলতায় এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা পর্যন্ত ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো তৈরির এই কাজটি সম্পন্ন করে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রয়োজনীয় অপারেটর নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাটি। ফলে বিশাল অংকের এই বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশবাসী এবং এখনো আগের মতো ব্যয়বহুল ও ধীরগতিতে সমুদ্রপথে তেল খালাস করতে হচ্ছে।

প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তা বিপিসির কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটে। এর ফলে প্রকল্পটির কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ১৮ মাসের নির্ধারিত গ্যারান্টির মেয়াদ গত আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। এখন থেকে এই বিশাল পাইপলাইন বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে কোনো যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তার সম্পূর্ণ দায় ও মেরামতের খরচ বিপিসিকে নিজেদের তহবিল থেকেই বহন করতে হবে। তাছাড়া, দীর্ঘ এই স্থবিরতার কারণে প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়নি, বরং সার্বিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্পটি চালুর শেষ পর্যায়ে এসে বিশাল অংকের বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণদাতা সংস্থাকে প্রায় ৬৯০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিপিসির ওপর বড় ধরনের বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে এসব আর্থিক টানাপোড়েনের মাঝেই সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছরের জন্য এসপিএম পরিচালনার অপারেটর হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন অপারেটর দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আধুনিক এই পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে বৃহৎ ট্যাংকার থেকে তেল খালাসের সময় ১০ থেকে ১২ দিন থেকে কমে মাত্র প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মহেশখালীর উপকূলে ভাসমান বয়া ও আধুনিক ট্যাংকের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল সরাসরি পাইপলাইনে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছাবে। তবে এত বড় একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যয়বহুল প্রকল্প দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এর সুফল পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com