দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, বরং মশাবাহিত এই রোগটি প্রতিদিনই কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান প্রাণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে আরও পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রাণহানি দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য খাতে এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেবল একদিনেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৬৫৫ জন রোগী। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেশের প্রায় প্রতিটি বড় চিকিৎসালয়ে রোগীর অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এই রোগের বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে গেলেও রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে শয্যাসংকটের কারণে মেঝেতে কিংবা বারান্দায় রেখে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ডেঙ্গুর এই ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন যে, কেবল চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত সামাজিক আন্দোলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনই আরও কঠোর ও সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা না করে, তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।