চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশের মার্কেট ও বিপণিবিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ২ শতাংশ সুদে কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছর মেয়াদে এই ঋণ চান তারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকারের ঘোষিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তবে অনেক এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা থেকেই লোডশেডিং শুরু হওয়ায় ব্যবসার সময় আরও কমে যাচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি অনেক দোকান ও প্রতিষ্ঠানে কেনাবেচাও কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমিতির তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
হেলাল উদ্দিন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ইডকলের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হলে সারাদেশে দ্রুত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। পাশাপাশি অতিরিক্ত বা অব্যবহৃত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে প্রতি ইউনিট ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হারে পিডিবির কাছ থেকে মূল্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সমিতির ১০ দফার মধ্যে অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে- সোলার প্যানেলের মান নিশ্চিত করতে বিএসটিআই সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং নিম্নমানের প্যানেল ব্যবহার হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা। সোলার প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইডকল, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মধ্যে যৌথ চুক্তির ব্যবস্থা, সমস্যা ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি রেগুলেটরি বোর্ড গঠন এবং সব ধরনের মার্কেট ও বিপণিবিতানকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনি তালুকদার, মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।