• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
মেঘনার বুকে ১৭ কেজির কাতলা, বিক্রি হলো ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় ৭ নভেম্বর ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিএনপির দ্বিচারিতা আছে: হাসনাত বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া রাসেল লজ অবসায়নে আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায় মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না তখন নিজেরাই প্রতিরোধ শুরু করে: নাহিদ ইসলাম কেয়ামতের ছোট ৫ আলামত: নবীজির দৃশ্যমান ভবিষ্যদ্বাণী নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার পুনর্বাসনের আলোচনার আগে নিষিদ্ধ আ.লীগের বিচারের দাবি জানালেন হাসনাত আবদুল্লাহ কাগজে কলমে ২ বালুমহাল ইজারা শ্রীমঙ্গলে, বাস্তবতা ভিন্ন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দৃষ্টিতে ২০২৭ সালে ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সেরা ২৫টি গন্তব্য

ভাতার অর্ধেক টাকা দেওয়ার প্রতিবাদে প্রশিক্ষণার্থীদের বিক্ষোভ

Reporter Name / ২২ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভাতা নিয়ে বগুড়ায় তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বগুড়া মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীরা নির্ধারিত ভাতার মাত্র ৫০ শতাংশ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ, তিন মাসের এই প্রশিক্ষণ কোর্সের শুরুতেই সম্পূর্ণ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও এখন তাদের অর্ধেক টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ জানান।

বিক্ষোভকারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের এই কোর্সে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিদিন একশ টাকা করে মোট পাঁচ হাজার নয়শ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত এপ্রিল-জুন ব্যাচের ভাতা বিতরণের দিন সকালে কেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে, তাদের প্রাপ্য টাকার মাত্র অর্ধেক অর্থাৎ দুই হাজার ৯৫০ টাকা দেওয়া হবে। অথচ কোর্স শুরুর দিনই তাদের কাছ থেকে শতভাগ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর রেখে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা চিঠির কপি চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

শুধু ভাতার টাকাই নয়, প্রশিক্ষণের মান ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা। তাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে ভুয়া প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি দেখিয়ে অনেক সময় তাদের দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি উপস্থিতি বাড়াতে আর্থিক লেনদেনের চুক্তির মতো গুরুতর বিষয়ও উঠে এসেছে তাদের অভিযোগে। পাশাপাশি, সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের নিজেদের অর্থে অনুশীলনের নানা সামগ্রী কিনতে হয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, অর্থ বরাদ্দে জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক তাঞ্জিমা আক্তার জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষ ব্যাচগুলোর ভাতা পরিশোধ সংক্রান্ত সরকারি একটি নির্দেশনায় মোট বরাদ্দের অর্ধেক পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নির্দেশিকা আসার আগেই শিক্ষার্থীদের শতভাগ ভাতার ভাউচার ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তামাদি হয়ে যায়। বর্তমান বাজেট থেকে আপাতত অর্ধেক ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে এবং বাকি অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর বকেয়া পরিশোধ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এদিকে কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত প্রশিক্ষণার্থীরা। আগে সম্পূর্ণ ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে পরে অর্ধেক ভাতা প্রদানের বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের নামে চলা বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখা এবং তাদের প্রাপ্য সম্পূর্ণ অর্থ দ্রুত পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীরা। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com