• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে পার্শ্ববর্তী দেশের উসকানি টের পাওয়া যায়: রিজভী লস অ্যাঞ্জেলেসের নতুন মেয়র নিথ্যা রমন কে এবং তার সঙ্গে জোহরান মামদানির তুলনা কেন? ‘জেদ ছিল গোল দিয়ে প্রমাণ করার’ জাতীয় চার নেতার নামে থাকা কোস্ট গার্ডের জাহাজের নাম পরিবর্তন রাহুলের চ্যালেঞ্জ মোদিকে, জবাব দিতে এগিয়ে এলেন অমিত শাহ চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে নিজেদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য আজ যে জাতীয় ঐক্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা জিয়াউর রহমানই দেখিয়ে গিয়েছিলেন: এম সাখাওয়াত হোসেন ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র: ইউজিসি চেয়ারম্যান বিএনপি গায়ের জোরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে: নাহিদ ইসলাম বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগ, বেতন ৫২ হাজার টাকা

সাপ ডোবানো ‘স্নেক ওয়াইন’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কেন এত জনপ্রিয়

Reporter Name / ২০ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর স্থানীয় বাজার কিংবা সরাইখানায় গেলে নজর কাড়ে এক অদ্ভুত পানীয়, যা ‘স্নেক ওয়াইন’ নামে পরিচিত। স্বচ্ছ কাঁচের বোতলের ভেতরে সাপের অস্তিত্ব দেখে যে কারও গা শিউরে উঠতে পারে, কারণ মদের বোতলে একটি আস্ত মৃত সাপ পেঁচানো অবস্থায় থাকে। মূলত ভাইপারজাতীয় সাপ সংরক্ষণের মাধ্যমে এই বিশেষ পানীয় প্রস্তুত করা হয়, যা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বেশ সমাদৃত। ঐতিহ্যবাহী এই পানীয়টি কেবল একটি বিশেষ পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি স্থানীয় জনজীবন এবং সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ মদ তৈরির প্রচলন শুরু হয়েছিল দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে চীনের প্রাচীন ঝু রাজবংশের আমলে। পরবর্তীতে এর জনপ্রিয়তা চীনের সীমানা ছাড়িয়ে ভিয়েতনাম, লাওস এবং থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে চীনা রাজবংশের চিকিৎসালয়ে ওষুধ বা প্রতিষেধক হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব কিংবা সাধারণ রেস্তোরাঁয় এটি বেশ আগ্রহ নিয়ে পরিবেশন করা হয়।

বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পানীয় প্রস্তুত করা হয়, যেখানে রাইস ওয়াইন বা উচ্চমানের শস্যদানা থেকে তৈরি মদের মধ্যে সাপ ডুবিয়ে রাখা হয়। অনেক সময় মদের স্বাদ ও গুণগত মান বাড়াতে এর সঙ্গে বিছা, জিনসেং কিংবা নানা ধরনের স্থানীয় লতাপাতাও যুক্ত করা হয়ে থাকে। মদ তৈরির মূল উপাদান ইথানল সাপের শরীরের ক্ষতিকর বিষাক্ত প্রোটিনগুলোকে ভেঙে ফেলে, ফলে এই পানীয় পানে কোনো ধরনের শারীরিক ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে না। ক্রেতাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আস্ত সাপের পাশাপাশি অনেক সময় ছোট গ্লাসে সাপের টুকরো ও রক্ত মিশিয়েও এটি পরিবেশন করা হয়।

ঐতিহ্যগতভাবে চীনা ওষুধবিজ্ঞানে সাপকে শরীর উষ্ণকারী এবং আর্দ্রতা দূরকারী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বাতের ব্যথা কমানো, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দূর করা এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই পানীয় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন উপকথায় এই পানীয়কে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক টনিক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত উপকারের পাশাপাশি এই ওয়াইনকে স্থানীয় সমাজে আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

চিকিৎসাগত ব্যবহার ছাড়াও অতিথি আপ্যায়নে এই বিশেষ পানীয় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে, যা অতিথির প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি বিভিন্ন দেশ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও স্মৃতিচিহ্ন বা স্যুভেনির হিসেবে ছোট আকৃতির এসব মদের বোতল কিনে নিয়ে যান। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা সংস্কার, বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির হাত ধরে এই অভিনব পানীয় তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। সাপের উপস্থিতি সংবলিত এই মদের বাজার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে বরাবরই এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com