• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
গাজীপুরে আজও ২৫ প্লাটুন বিজিবি-আনসার ও এসআরবি মোতায়েন, কর্মস্থলে ফিরেছেন শ্রমিকেরা ঋণের এই মহাসাগর থেকে কীভাবে উদ্ধার পাবে সরকার রান্নার গ্যাস ৩০০-৪৪০ টাকা বেশি দিয়েই কিনতে হচ্ছে নবম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ৩ ধাপে, আসতে পারে সিলেবাসে পরিবর্তন ফোবিয়া কী, সাধারণ ভয় থেকে এটি কতটা আলাদা? ফিনিশিংয়ে ধার ফেরানোর চেষ্টা: গোলের সমস্যা কাটাতে মোরছালিনকে ফেরাতে চায় বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে এত পানি লাগে কেন, এই পানি যায় কোথায় পান চাষে খাসিয়াদের দুর্দিন রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার: কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ থাকছেন ভাড়াটেরা রামেক হাসপাতাল: নকল ফিল্ম সরবরাহ টিউবও নিম্নমানের

ঋণের এই মহাসাগর থেকে কীভাবে উদ্ধার পাবে সরকার

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র দিন দিন উন্মোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পেছনে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও এর একটি বড় অংশই লোপাট বা অপচয় করা হয়েছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বাস্তবায়িত নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ নয়ছয় করার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের ঋণের বোঝা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প, যেখানে কাগজে-কলমে সাড়ে দশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অথচ এই বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের আড়ালে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রকল্পটির আনোয়ারা অংশে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিলাসবহুল অবকাঠামো তৈরি করতে গিয়ে কয়েক শ কোটি টাকা স্রেফ অপচয় করা হয়েছে, যার সাথে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের কোনো বাস্তব সংগতি নেই।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া ঢাকা-গাজীপুর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পেও চরম অব্যবস্থাপনার নজির দেখা গেছে। দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে দুই হাজার আটশো কোটি টাকার বেশি অর্থ সম্পূর্ণ বরবাদ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সুফল না আসায় সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ এই বিতর্কিত প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বিশাল এই আর্থিক ক্ষতির পুরো দায় এখন রাষ্ট্রের ও জনগণের ঘাড়েই এসে চেপেছে।

এ ধরনের উচ্চাভিলাষী ও অপরিকল্পিত প্রকল্পগুলোর কারণে সরকারের ওপর ঋণের বোঝা দিন দিন পাহাড়সমান হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট থেকে বাঁচাতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপচয় রোধে কঠোর নজরদারি এবং পূর্বানুমোদন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো দেশের উন্নয়নের পরিবর্তে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com