• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ট্রাম্পকে রুখে দিয়েছে তরুণদের ভোট

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির তরুণ ভোটারদের অভূতপূর্ব রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন রাজনীতিতে সাধারণত দেখা যায় যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আসন হারায়, তবে বর্তমান ডেমোক্র্যাটদের এই জয় গত অর্ধশতকের মধ্যে যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য রেকর্ড সৃষ্টিকারী। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর অনিশ্চয়তা এবং পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ব্যালট বাক্সে। মূলত ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারদের একটি বড় অংশ পরিবর্তন এবং নিজেদের অস্তিত্বের সংকটের কথা মাথায় রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটেও তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অতীতে ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বহু কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টেও এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তরুণ ভোটারদের এই আকস্মিক ও ব্যাপক পরিবর্তন শুধু বড় শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা গ্রাম ও শহরতলির অঞ্চলগুলোতেও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা ও বাড়িভাড়ার আকাশচুম্বী খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়া তরুণ প্রজন্ম প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে এমন কিছু নতুন মুখকে বেছে নিয়েছেন, যাঁরা তাদের দৈনন্দিন সংগ্রামের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

তবে তরুণ এই ভোটাররা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তাঁদের এই সমর্থন কোনোভাবেই নিঃশর্ত নয়। তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য থেকে ভোট দেননি, বরং পরিবর্তনের একটি চূড়ান্ত আশাকে সামনে রেখে ব্যালট প্রয়োগ করেছেন। বিজয়ী প্রার্থীরা তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ঠিকমতো রক্ষা করছেন কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে তরুণরা জানিয়েছেন। টেক্সাস ও মিশিগানের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তরুণ প্রার্থীদের এমন কিছু মুখ জয়ী হয়েছেন, যাঁদের প্রথাবিরোধী ও সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মানসিকতা ভোটারদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জীবনযাত্রার এই হতাশা বর্তমানে বিশ্বজুড়েই এক ধরনের রাজনৈতিক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বয়স্ক প্রজন্মের জন্য বিভিন্ন ভর্তুকি ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর শিক্ষাব্যবস্থার চাপ এবং চাকরির নিরাপত্তাহীনতা যেন এক অনিবার্য সংকটে রূপ নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নানা নেতিবাচক প্রভাবও ভোট দেওয়ার বয়সে পা রাখা তরুণদের মনে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক মুক্তি এবং উন্নত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রার্থীরাই তরুণ প্রজন্মের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com