রাজনীতি ডেস্ক: পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই আশঙ্কার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা কেবল নির্দিষ্ট কোনো মাসকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন এ ধরনের তৎপরতা চলার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নাশকতা কঠোরহস্তে প্রতিহত করার প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পোশাকশ্রমিকদের অসন্তোষ ও আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের জীবনজীবিকা কঠিন হয়ে উঠেছে, যা সরকার পুরোপুরি উপলব্ধি করছে। এই বাস্তবতার আলোকেই সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি কমিশন গঠন করেছে, যার মাধ্যমে শ্রমিকদের মূল দাবিগুলোর যৌক্তিক সমাধান হওয়ার কথা ছিল। নিয়মানুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনা করা হলেও শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তা সত্ত্বেও চলমান আন্দোলনে যেসব সহিংস ও আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা সাধারণ বা প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে উপদেষ্টা আরও জানান যে, এই সহিংসতার পেছনে দেশবাসীর অজানা কোনো শক্তির ইন্ধন থাকতে পারে এবং সীমান্তের ওপার থেকেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে সরকারের সংশয় থাকলেও দলটির কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা চালানো হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তবে আগের মতো শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমনের পক্ষপাতী নয় বর্তমান প্রশাসন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের অনেকাংশেই তরুণ এবং তারা রাষ্ট্রেরই নাগরিক। ফলে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার এবং খুব দ্রুতই বর্তমান পরিস্থিতির ইতিবাচক সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তথ্য উপদেষ্টা জানান যে, তিনি নিজে স্বউদ্যোগে ফিরে আসুন কিংবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করুক না কেন, সরকারের মূল লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন। তবে তার পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো আগাম সিদ্ধান্ত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিস্থিতি ও সময় তৈরি হলেই সরকার এ বিষয়ে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অতীতে যেভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমানো হতো, সেই অপসংস্কৃতি থেকে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ বের করে আনা হয়েছে এবং সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।