• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
সরকারিভাবে বিনাখরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি: অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে, যেসব নথিপত্র লাগবে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে দিনমজুরের টাকায় তিন সড়কে ১১ যাত্রীছাউনি ৪৫তম বিসিএসে গেজেট বঞ্চিতদের রি-ভেরিফিকেশন চালু, সিদ্ধান্ত চলতি মাসে আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আইনপ্রণেতা, সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত রোববার মানুষের মতো বক্সিং, মার্শাল আর্ট, টেবিল টেনিস খেলছে রোবট! পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা গরুর দুধ: উপকার কতটা, ঝুঁকিই-বা কোথায়? ‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি’

আবুল হাসনাত স্মরণে কয়েকটি কথা

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: সাহিত্যসাধনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাঝের দ্বন্দ্ব নিয়ে বুদ্ধদেব বসু একসময় বলেছিলেন যে সাংবাদিকতা সাহিত্যের শত্রু। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে পেশা বদল করার সুযোগ খুবই সীমিত থাকে, যা লেখকদের ক্ষেত্রে বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাহিত্যের প্রতি অবিচল থেকে অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাত। দীর্ঘ সময় ধরে সম্পাদনার কঠিন দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি নিজের সাহিত্যিক সত্তাকেও টিকিয়ে রেখেছিলেন সযত্নে।

সম্পাদক হিসেবে আবুল হাসনাতের অবদান বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি ঐতিহ্যবাহী দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সাময়িকীর পাতার সম্পাদনার কাজটি একটানা দীর্ঘ চব্বিশ বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলম এবং চিত্রকলাবিষয়ক ত্রৈমাসিক শিল্প ও শিল্পী পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন। প্রখ্যাত কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ তাঁর এক গ্রন্থের ভূমিকায় কৃতজ্ঞতাভরে উল্লেখ করেছিলেন যে আবুল হাসনাতের নিরন্তর তাগিদ ও চাপের ফলেই তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনামূলক লেখা রচিত হয়েছিল। তিনি সিকান্দার আবু জাফর ও হাসান হাফিজুর রহমানের মতো প্রথিতযশা সম্পাদকদের গৌরবোজ্জ্বল ধারারই সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন।

মাহমুদ আল জামান ছদ্মনামে নিয়মিত গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন এই প্রতিভাবান লেখক। ষাটের দশকের প্রতিবাদী ও সংগ্রামমুখর জীবন তাঁর কাব্যবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক কিংবা ভুবনডাঙার মেঘ ও নধর কালো বেড়াল কাব্যগ্রন্থের পঙ্‌ক্তিগুলো সময়ের সীমানা পেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাঠকদের মনে অনুরণিত হতে থাকবে। এ ছাড়াও সতীনাথ, মানিক, রবিশঙ্কর ও অন্যান্য কিংবা জয়নুল, কামরুল, সফিউদ্দীন ও অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। শিশু ও কিশোরদের জন্যও তিনি বেশ কিছু চমৎকার বই উপহার দিয়েছিলেন, যা তরুণ প্রজন্মকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা স্মৃতি ও আত্মকথন লিখে গেছেন আবুল হাসনাত, যার মধ্যে তাঁর হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে বইটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই স্মৃতিকথায় তিনি নিজেকে কোনো বীর বা বিপ্লবী হিসেবে উপস্থাপন না করে বরং মধ্যবিত্ত সমাজের একজন সাধারণ গৃহস্থ মানুষ হিসেবেই তুলে ধরেছেন। অতিরিক্ত পারিবারিক শাসন ও দারিদ্র্যের কশাঘাত কীভাবে তাঁর শৈশবকে প্রভাবিত করেছিল, সে বিষয়েও তিনি অত্যন্ত অকপটে কলম ধরেছেন। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে এই গুণী ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান ঘটে, যা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে রয়ে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com