• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ঢাকায় শুরু হলো ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার সাজেক অবরোধ: পাঁচ দাবির চারটিতে সমঝোতা, দ্রুত অবরোধ তোলার আশা বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ভারতের ম্যাচের দিন আইপিএল নিলাম রমজানের আগে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি বেড়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা রেলের ৩ হাজার একর জমি বেদখলে, সংসদীয় কমিটিতে তথ্য প্রযুক্তি, কৃষি ও হালকা প্রকৌশল খাতে জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ চুক্তিতে অর্থসচিব থাকছেন খায়েরুজ্জামান মজুমদার ভারমুক্ত হয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ

Reporter Name / ৯ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রাতের আকাশজুড়ে শত শত রঙিন ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। মারমা ভাষায় এই উৎসবকে ‘মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ নামে অভিহিত করা হয়, যার বাংলা অর্থ হলো শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলিকদম ও রুমাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার আদিবাসী জনপদে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্যের বন্যা বয়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই পাহাড়ের নিস্তরঙ্গ জীবন রঙিন আলোয় ঝলমল করে ওঠে এবং পাহাড়ি জনপদ এক উৎসবমুখর জনপদে রূপ নেয়।

উৎসবের মূল দিনটিতে সকাল থেকেই বান্দরবানের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার বা ক্যায়াংগুলোতে উপাসক-উপাসিকাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিহারে বিহারে চলে ফানুস উত্তোলন, ধর্মীয় দেশনা শোনা, ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে অন্ন ও অর্থদান এবং ফুল পূজা করার নানা আনুষ্ঠানিকতা। পুণ্যার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বুদ্ধের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নিজেদের অষ্টশীল গ্রহণ করে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা চালান। এ সময় বৌদ্ধ বিহারগুলো নানা রঙের কাগজ, ফুল আর আলোকসজ্জায় এক নান্দনিক রূপ ধারণ করে।

দিনের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি জগতের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয় বিহারগুলোতে। দায়ক-দায়িকারা অত্যন্ত ভক্তিভরে মোমবাতি ও ধূপকাঠি প্রজ্জ্বলন করেন এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে ‘ছোয়াইং’ বা হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে মিলে প্রার্থনা সভায় অংশ নেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন। ধর্মীয় এই আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় পাহাড়ি জনপদে।

সন্ধ্যা নামতেই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব অর্থাৎ ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায়। মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ ‘সবাই মিলেমিশে রথযাত্রায় যাই’ এই বিশেষ গান গাইতে গাইতে ড্রাগনের আদলে সাজানো রথটি টানতে শুরু করেন। শত শত আনন্দোচ্ছল মানুষ রথ টেনে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং এ সময় পুতুল নাচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রথে জ্বালানো হাজার হাজার মোমবাতির আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং পরিশেষে সাংগু নদীতে রথ বিসর্জনের মাধ্যমে এই বর্ণিল উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com