• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
পত্রিকা: ‘নতুন পে-স্কেলে বেতন দিতে ব্যাংক ঋণ নেয়া বাড়িয়েছে সরকার’ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র: দুই দেশের নির্বাচনের পরিণতি হবে বিশ্বব্যাপী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে ৩৯৩ পদে বড় নিয়োগ এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা গ্রিড বিপর্যয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সচিবালয়সহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক এলাকা জাল সনদে চাকরি: প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন, মব নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসলামী ব্যাংকের এক শাখা থেকেই ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের নামে মামলা মাও সে–তুংকে নিয়ে ‘রসিকতা’, চীনে বিপাকে এমবাপ্পে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভোটার টানতে নানা প্রতিশ্রুতি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন: মেয়রের মেয়াদ শেষের আট মাসের কী হবে

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার নতুন এক আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়োগের ফলে তাঁর আগের মেয়াদের বৈধতা নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়েছে। বিশেষ করে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গত আট মাস ধরে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং ওই সময়ে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী ষষ্ঠ পরিষদের নির্ধারিত মেয়াদ আগেই শেষ হওয়ায় এই নতুন পদায়ন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আইনি বিধান পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী কোনো সিটির মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর ধরা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সুবাদে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই ওই পরিষদের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। অথচ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের রায়ে গত বছর নভেম্বর মাসে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন শাহাদাত হোসেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন যে আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি মূল নির্বাচনের ফল সংশোধন করে স্থলাভিষিক্ত হওয়ায় তাঁর মেয়াদ মূলত পূর্বের নির্ধারিত সময়ই হিসাব করা উচিত ছিল।

এদিকে এই প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বিভিন্ন পক্ষ আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, মেয়াদের বাইরে গিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন সেগুলোর আইনি ভিত্তি কী হবে, তা সময় বলে দেবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এই নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা দাবি করেছেন যে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁকে প্রশাসক বানানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এই সময়ে গৃহীত সুযোগ-সুবিধা ও সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এমনকি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও তুলেছে কোনো কোনো রাজনৈতিক সংগঠন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাচন কমিশন সংশোধিত গেজেট প্রকাশের পর তিনি মেয়রের চেয়ারে বসেন। তৎকালীন সেই ফলাফল পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর মেয়াদকাল কত দিন হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসক হিসেবে নতুন এই নিয়োগের ফলে সেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং নগর প্রশাসনের কার্যক্রমে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com