• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি

Reporter Name / ১১ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: রাজধানীর নিশাতনগরে তুরাগ নদের তীরে প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বা বিইউএফটি। আধুনিক অবকাঠামো, দৃষ্টিনন্দন ভবন এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশেষায়িত ল্যাবরেটরির সমন্বয়ে এই ক্যাম্পাসটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমান সময়ে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের পাশাপাশি ফ্যাশন ডিজাইন, ব্যবসা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পজগতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের উপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষাদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এই উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষা প্রসারের এই যাত্রার শুরু হয়েছিল দুই হাজার সালে বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে, যা পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাতটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ এবং একটি বিশেষ ইনস্টিটিউট সক্রিয় রয়েছে। এসবের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সসহ মোট ২৪ ধরনের ভিন্ন প্রোগ্রাম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্নাতক স্তরে অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, ব্যবসায় প্রশাসন বা বিবিএ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ইংরেজি, পরিবেশবিজ্ঞান, ফ্যাশন ডিজাইন ও প্রযুক্তি, এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো যুগোপযোগী বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, ইংরেজি, ফ্যাশন ডিজাইন এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাগত ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা আরও শাণিত করার সুযোগ দেওয়া হয়।

তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি শিল্পকারখানা পরিদর্শন, ইন্টার্নশিপ এবং নানা কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পাঠদানকে আরও কার্যকর করতে ক্যাম্পাসে ৭২টি আধুনিক মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ এবং ৪৩টি বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি তৈরি করা হয়েছে। ফ্যাশন ও পোশাকশিল্পের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাড স্টুডিওতে লেকট্রা ও গারবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্প সফটওয়্যারে কাজ শেখার সুব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি আধুনিক ফ্যাব্রিক ও গার্মেন্ট টেস্টিং ল্যাব, পেশাদার ফটোগ্রাফি এবং প্রোডাকশন স্টুডিও শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে ক্যাম্পাসে জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হোস্টেল এবং নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই সংযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়নেও বিশ্ববিদ্যালয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে এবং এর ২৪৫ জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের মধ্যে ২৮ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী। শুধু দেশীয় পরিমণ্ডলেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিশ্বের ১৪টি দেশের ৭৮টি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের চুক্তি করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, জার্মানি ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলমান সহযোগিতার সুবাদে শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা এবং বৃত্তির সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এর বাইরেও ক্যাম্পাসের ২২টির বেশি সক্রিয় ছাত্র ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব গুণাবলি বিকাশ, দলগত কাজ এবং বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মেধার মূল্যায়নের অংশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের জন্য শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যও নিয়মিত আর্থিক প্রণোদনা ও বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে বের হওয়া সাবেক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে অধ্যয়ন করছেন। এখানকার বহু সাবেক শিক্ষার্থী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্বনামধন্য দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com