• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয়

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার আধিপত্য ভেঙে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। দেশটির সাম্প্রতিক নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন একটি রাজনৈতিক আন্দোলন অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সাল থেকে দেশটিতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে। নির্বাচনে ভরাডুবির পর দেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রেসিডেন্ট পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন, যা ইউরোপের এই দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি বিরোধী এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন মূলত গতি পায় কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর। নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রবল জনরোষের মুখে সরকার বাধ্য হয়ে আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তন আনার এই তীব্র আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে শীর্ষ নেতা আলেক্সান্দার ভুসিচ নিজেই হারের কথা স্বীকার করেন। এই ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানী বেলগ্রেডের রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও উল্লাসিত শিক্ষার্থী। গাড়ি থেকে হর্ন বাজিয়ে, নাচানাচি করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তারা এই বিজয়কে উদযাপন করেন। প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন, যা যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২৫০ আসনের দেশটির সংসদে শিক্ষার্থীরা প্রায় ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন লাভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের ঝুলিতে যেতে পারে প্রায় ১০৫টি আসন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সার্বিয়ার এই ফলাফল ইউরোপের অন্যান্য দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনগুলোর জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। পরাজয় মেনে নিলেও পুরনো শাসকগোষ্ঠী বিরোধী দলে থেকে নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, আর নতুন বিজয়ী শক্তি এখন দেশ গঠনে মনোনিবেশ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com