• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

পূজায় সিলেটে রেকর্ড গড়লেন পর্যটকেরা

Reporter Name / ১১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

ভ্রমণ ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজা ও এর সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটির সুবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রকৃতির রূপকন্যা সিলেট। এখানকার সবুজ টিলা, নয়নাভিরাম চা-বাগান, স্বচ্ছ পানির ঝরনা ও জনপ্রিয় সাদা পাথরের টানে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে গেছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে। বিশেষ করে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে এবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, ঈদের ছুটির দিনগুলোতেও সাধারণত এত বেশি পর্যটকের সমাগম দেখা যায় না।

ছুটির দিনগুলোতে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাতারগুলের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়া এবং লালাখালেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। এমনকি সিলেট শহরতলির চা-বাগানগুলোতেও ছবি তোলার জন্য ভালো স্থান পেতে হিমশিম খেতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই ছুটির সময়ে রেকর্ড সংখ্যক নৌকা চলেছে এবং পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও বেশ ভালো হয়েছে।

তবে ব্যাপক এই পর্যটক সমাগমের ফলে সিলেটে তীব্র আবাসনসংকট দেখা দেয়। আগাম বুকিং থাকায় নগরী এবং এর আশপাশের হোটেল-মোটেলগুলোতে কোনো খালি কক্ষ পাওয়া যায়নি। শেষ মুহূর্তে যারা সিলেটে পৌঁছান, তাঁরা জিন্দাবাজার, আম্বরখানা কিংবা দরগাহ গেট এলাকার কোনো হোটেলেই কক্ষ পাননি। বাধ্য হয়ে অনেক পর্যটক হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহপরানের মাজার প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে বা মাজারের আঙিনায় রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন।

পর্যটকদের এই আনন্দঘন ভ্রমণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নাজুক যোগাযোগব্যবস্থা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান সংস্কারকাজ এবং কিছু সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ যানজট ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সাধারণত যে পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগেছে। এর সঙ্গে ট্রেনের টিকিট প্রাপ্তির জটিলতা এবং উড়োজাহাজের চড়া ভাড়ার কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত পর্যটকদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পেরেছেন। সিলেটের জেলা প্রশাসকও নিশ্চিত করেছেন যে ছুটির শেষ দিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, ভিজিল্যান্স দল ও প্রশাসন মাঠে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com