• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ভারতে পড়তে ও লিখতে ভুলে যাওয়া মেয়েটির সঙ্গে কী ঘটেছে?

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: কোভিড মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের জীবনে যে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তার একটি বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে রাধিকা নামের এক তরুণীর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অত্যন্ত প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান রাধিকা, যার জীবন মহামারী শুরুর পর থেকেই সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার পড়াশোনার যে মারাত্মক ক্ষতি হয়, তা পরবর্তীতে তার জীবনের গতিপথ পুরোপুরি পাল্টে দেয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যখন দেশজুড়ে কঠোর লকডাউন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়, তখন রাধিকার মতো গ্রামীণ অঞ্চলের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়ে। শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের সুব্যবস্থা থাকলেও, রাধিকার পরিবারে ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন দূরে থাক, মৌলিক চাহিদার জোগান দেওয়াই ছিল কঠিন লড়াই। ফলে দীর্ঘ সময় পড়ালেখার সঙ্গে কোনো ধরনের সংযোগ না থাকায় ধীরে ধীরে সে পড়াশোনা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পরিবারের আর্থিক অনটন এবং সামাজিক নানা পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে রাধিকাকে বাধ্য হয়ে ঘরের নানা কাজে সময় দিতে হতো, যা তার শিক্ষা জীবনকে চিরতরে থমকে দেয়। স্কুল খোলার পর অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরে যেতে পারলেও রাধিকার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা রূপ নেয়। দীর্ঘ দিন বইখাতার সংস্পর্শে না থাকায় সে শুধু পড়াশোনায় পিছিয়েই পড়েনি, বরং একসময়ে সে লেখা ও পড়ার মৌলিক দক্ষতাগুলোও ভুলে যেতে বসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারীর এই দীর্ঘ বিরতি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের কন্যাশিশুদের শিক্ষার অধিকারের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে, যার শিকার হয়েছে রাধিকার মতো হাজারো কিশোরী। রাধিকার এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা কেবল একজন ব্যক্তির ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সংকটের সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com