রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম দাবি করেছেন যে, এই নির্বাচনি এলাকায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন ও গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন চষে বেড়িয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন তিনি এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে বলে জানান। সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে যে অসন্তোষ জমেছে, তার সঠিক প্রতিফলন এই উপনির্বাচনে দেখা যাবে বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের জগন্নাথপুর, বেগুনবাড়ী, নারগুন, মোহাম্মদপুর, জামালপুর, রায়পুর, চিলারং, রহিমানপুর, আকচা ও সালন্দর ইউনিয়ন চষে বেড়ান এই কেন্দ্রীয় নেতা। দিনভর এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মী ও দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা সমালোচনা করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য ফক্বীহ মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানসহ স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশগুলোতে বক্তব্য দেওয়ার সময় মাওলানা আবদুল হালিম সরকারের বিভিন্ন জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও গণরায়ের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার জবাব জনগণ আসন্ন উপনির্বাচনে দেবে। বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোক পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই মাসের আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভোটকেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও কারচুপি প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সচেতন জনগণ কোনো ধরনের ভোটডাকাতি বা নির্বাচনি ইঞ্জিনিয়ারিং বরদাশত করবে না। ভোট চুরি ঠেকাতে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের কর্মীরা কড়া পাহারা বসাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিশেষে, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার আদায়ের স্বার্থে দেলাওয়ার হোসেনকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।