• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ভারত সফরে রুবিও, কেন জামনগরে নজর যুক্তরাষ্ট্রের রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে ‘নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ চট্টগ্রাম বন্দর: ইজারার চুক্তি সংসদে আলোচিত হলো না কেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের ইতিহাস সংকলনের উদ্যোগ দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের ‘তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবায়ন করেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তার প্রমাণ’ শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ ভেপিং ছেড়েছেন সেলেনা, বড় ক্ষতি হয়েছে জানালেন নিজেই

চট্টগ্রাম বন্দর: ইজারার চুক্তি সংসদে আলোচিত হলো না কেন

Reporter Name / ৯ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বা ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ আইন অর্থাৎ সংবিধানের বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বা চুক্তিপত্র জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক চুক্তিটি নির্ধারিত নিয়মে সংসদীয় প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে।

সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারাটির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর বিষয়ে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবহিত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে পালন করা উচিত বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। অথচ বন্দরের মতো স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশি কোনো পক্ষের হাতে অর্পণের আগে বা পরে তা সংসদে আলোচনা বা উপস্থাপনের প্রয়োজন বোধ করা হয়নি কেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্ময় ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং পণ্য খালাসের গতিশীলতা বাড়ানোর কথা বলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি করা হলেও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে। অতীতেও আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় অনেক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে সংসদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা জনমনে নানা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোতে এ ধরনের গোপনীয়তা বা অনীহা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল মহল বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে চুক্তিটি কেন সংসদে উত্থাপন করা হলো না, তা নিয়ে বিতর্ক দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিরোধী দলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর সঠিক ব্যাখ্যা দাবি করেছে। আগামী দিনে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে যাতে সংবিধানের নিয়ম নিখুঁতভাবে মেনে চলা হয় এবং সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, সেই দাবি জোরালো হচ্ছে সব মহল থেকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com