• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
আধুনিক প্রযুক্তি ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সম্মিলন ২৮ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন করে স্বাক্ষরের চিন্তা আত্মঘাতী মেটার গিটহাবে হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ, ১৫০০ ব্যক্তির তথ্য ফাঁস মানুষের চিন্তাশক্তি বদলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চাকরি, পদ ৩৯ জনবল নিয়োগ হয়নি, প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার দর্শনার্থী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জুলাই জাদুঘর ফেসবুকে বিএনপি নেতার পোস্ট: ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’

হানিফ পাপ্পুর তুলিতে রিকশাচিত্রের নতুন জীবন

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিকশা ও রিকশাচিত্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের পেছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রবীণ শিল্পী মোহাম্মদ হানিফ পাপ্পু অন্যতম। নানা প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনের মাঝেও তিনি সুদীর্ঘ সময় ধরে এই লোকশিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন। ষাটের দশকের শেষভাগে পরিবারের এক সদস্যের হাত ধরে তাঁর এই অঙ্গনে পথচলা শুরু হয়। প্রথমে সিনেমার ব্যানার এবং পরবর্তী সময়ে রিকশার পেছনের প্লেটে জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নানা দৃশ্য এঁকে তিনি বেশ পরিচিতি লাভ করেন।

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের প্রচলন শুরু হলে এই শিল্প পেশাগত সংকটের মুখে পড়ে। তবে শত কষ্টের মধ্যেও নিজের প্রিয় কাজ থেকে সরে দাঁড়াননি এই প্রবীণ শিল্পী। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তিনি অভিনক এক পথ বেছে নেন এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যে রিকশাচিত্র ফুটিয়ে তুলতে শুরু করেন। হারিকেন, কেটলি, মগ কিংবা চশমার বাক্সের মতো সাধারণ জিনিসে তাঁর আঁকা রঙিন নকশা একসময় চারপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুরুর দিকে অনেকে তাঁর এই উদ্যোগকে পাগলামি মনে করলেও কালক্রমে তা শিল্পরসিকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

বর্তমানে তাঁর এই কর্মযজ্ঞে বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন মুনির হোসেন নামের এক তরুণ শাগরেদ। রিকশাচিত্র ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় শিল্পী সমাজ অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি হানিফ পাপ্পুর মনে কিছু শঙ্কাও কাজ করে। তাঁর প্রত্যাশা, বাণিজ্যিক প্রসারের প্রতিযোগিতায় যেন এই শিল্পের নিজস্ব মোটিফ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য হারিয়ে না যায়।

ভবিষ্যতের দিনগুলোতে রিকশাচিত্র যেন আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়, সে আশাই করেন এই শিল্পী। তাঁর সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন হলো, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এই শিল্পকলা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাঠ্যসূচিতে স্থান পাবে। নতুন প্রজন্মের তরুণরা এগিয়ে এলে তবেই এই লোকশিল্পের মূল ধারাটি দীর্ঘস্থায়ীভাবে টিকে থাকবে। হানিফ পাপ্পু আজীবন এই শিল্পকর্মের সঙ্গেই বেঁচে থাকতে চান এবং তাঁর তুলির ছোঁয়ায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে চান বাংলার ঐতিহ্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com