• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
চাঁদাবাজি রোধে নতুন আইনের চিন্তা সরকারের ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ পেলেন চরফ্যাশনের ইমাম হাসপাতাল থেকে ফের সার্কিট হাউসে চুয়েট ভিসি, শাটডাউনে ফাঁকা ক্যাম্পাস ইতিহাসে এই প্রথম দুর্গাপূজায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান দিল ঢাকা জেলা পরিষদ নতুন ঋণে শর্ত থাকবে, আলোচনা ইতিবাচক সীমান্তের ১৮০০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানালেন বিজিবি মহাপরিচালক রাজস্ব আদায় না বাড়ায়, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা চাঁদাবাজিতে ভুক্তভোগী মামলা না করলে ,পুলিশ মামলা করতে পারবে খাদ্যনিরাপত্তায় নতুন পথ দেখাচ্ছে ইউএইচটি প্রযুক্তি সাইবার ঝুঁকিতে দেশের ১৫ খাত, সতর্কতার তাগিদ

নতুন ঋণে শর্ত থাকবে, আলোচনা ইতিবাচক

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব আয় এবং দুর্বল আর্থিক খাতের মতো নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক এই পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে উত্তরণের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সংকোচনমূলক ও কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া দীর্ঘদিনের এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কাটাতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান যে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে আইএমএফের কাছ থেকে এই নতুন ঋণ পেতে হলে তাদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতাও থাকবে। কিছু বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়াও বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপপরিচালক সোনালি জৈন-চন্দ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে জানান যে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা মোকাবিলায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তবে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের প্রচেষ্টার কারণে যাতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে নীতি ও সংস্কারের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় সাধনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরে আইএমএফ জানিয়েছে যে দেশের জিডিপি ও রাজস্বের অনুপাত বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। উন্নয়ন খাতের ব্যয় নির্বাহ এবং আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এই হার বাড়ানো অপরিহার্য, যার জন্য রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি। আর্থিক খাতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন যে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে আইএমএফের যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশও একমত পোষণ করে। এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশ নতুন ঋণ সহায়তার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মাঝেও বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইএমএফ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সংস্থাটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com