• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
আয়াশসহ চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো এবার কেনিয়ায় টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন রপ্তানি করবে ওয়ালটন ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ অযৌক্তিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার অব ডিজঅ্যাবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম, ভর্তি যেভাবে এক বছর ‘শান্তিভঙ্গ’ না করার শর্তে জামিন পেলেন সিজেপি নেতারা হাসপাতালের জমিতে হচ্ছে আড়ত, অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আজই আবেদন শেষ দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোডিং ছাড়াই এআই দিয়ে গেম তৈরি করা যাবে গুগলের প্লেগ্রাউন্ড প্ল্যাটফর্মে আইপিইউ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার

এক বছর ‘শান্তিভঙ্গ’ না করার শর্তে জামিন পেলেন সিজেপি নেতারা

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক হওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির বা সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে তাঁদের এই মুক্তি দেওয়া হয়। সম্প্রতি রাজধানী দিল্লিতে অবতরণের পরপরই বিমানবন্দর থেকে তাঁদের আটক করেছিল পুলিশ এবং পরে তাঁদের প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। আটক হওয়া এই তিন শীর্ষ নেতা হলেন অভিজিত দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাঁদের হাজির করা হলে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী এক বছর তাঁদের কোনো ধরনের শান্তিভঙ্গমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া যাবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে দুর্নীতির প্রতিবাদে সিজেপির এই আন্দোলন ঘিরে ভারতীয় রাজধানীতে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে শনিবারের বিক্ষোভে রাজনৈতিক নেতাসহ তিন হাজারের বেশি মানুষকে সাময়িকভাবে আটক করা হলেও রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং একই সময়ে আটক ইউটিউবার ও রাজনৈতিক কর্মী ধ্রুব রাঠিকেও মুক্তি দেওয়া হয়। বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিত দীপকের গড়া এই প্ল্যাটফর্মটি এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল এবং ধারণা করা হয় যে এর পেছনে দেশের বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থন রয়েছে।

এদিকে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সম্প্রতি দিল্লি মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা সংবিধান অবমাননা মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ বসার কথা ছিল। এর আগে আদালতের বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, রোববারের প্রতিবাদের আগে মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। বর্তমানে কড়া নিরাপত্তা এবং প্রবেশদ্বারে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে রাজধানীর মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। সিজেপির নেতৃবৃন্দ দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার বাদ দেওয়া ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের রাজপথের আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না। তাঁদের মূল অভিযোগ হলো, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার মৌলিক অধিকারে বাধা দিতে রাজধানীতে এক ধরনের অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড় বইছে। বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলনকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্নভাবে দেখছে এবং এর পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করছে।

সিজেপির এই কার্যক্রম ও আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই সংগঠনটিকে বিরোধী দলগুলোর একটি বিশেষ রাজনৈতিক হাতিয়ার বা বি-টিম হিসেবে অভিহিত করেছে। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, কিছু বিদেশি শক্তির ইশারায় দেশে কৃত্রিম উপায়ে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠী। অন্যদিকে, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে প্রত্যেকেরই মত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তবে গণতন্ত্রের নামে বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য ছড়ানো কারও অধিকারের মধ্যে পড়ে না এবং বিষয়টি যেন কেউ ভুলে না যান। তিনি আরও যোগ করেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি প্রজন্মকে সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হলেও রাষ্ট্রগঠনের মূল লক্ষ্য থেকে তাদের কখনো বিচ্যুত করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং তরুণ প্রজন্মের এই আকস্মিক রাজনৈতিক সক্রিয়তা ভারতের আগামীর রাজনীতিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার চলমান এই সংঘাত দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com