জাতীয় ডেস্ক: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় শিশু-কিশোরদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাট মাঠে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মাঠটি পুনরায় খেলার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাবগাড়ী বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকারি নিবন্ধন না পাওয়ায় বেশ কয়েক বছর আগে এর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিদ্যালয়ের নামে থাকা বিশাল মাঠটি এতদিন স্থানীয় শিশু-কিশোর ও যুবকদের খেলাধুলার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের জমিদাতা পক্ষ সেখানে খেলাধুলায় বাধা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি আত্রাই নদপারের এই মাঠটির একটি অংশ মাছের শুঁটকি ও ভুট্টা শুকানোর চাতাল তৈরির জন্য ভাড়া দেওয়া হয়, যার ফলে খেলাধুলার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয় ছুটির পর ও অবসরে তারা নিয়মিত এই মাঠে খেলাধুলা করত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গত কিছুদিন ধরে তারা মাঠে প্রবেশ করতে পারছে না। এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ মনে করে, এমনিতেই অঞ্চলটি কিছুটা পিছিয়ে পড়া এবং মাদকপ্রবণ, তাই পর্যাপ্ত বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ না থাকলে যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ভূত এই সংকট নিরসনে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে মাঠটি শিশুদের জন্য স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা যায়।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই এবং সরকার যখন মাঠ সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন মাঠ কুক্ষিগত করার বিষয়টি সরকারি নীতির পরিপন্থী। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজকুরুনী দাবি করেছেন যে মাঠটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি এবং কেবল বর্ষা মৌসুমে সাময়িকভাবে কিছু অংশ ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে, গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বিদ্যালয়ের কোনো সম্পত্তি বা জায়গা কাউকে ভাড়া দেওয়ার কোনো আইনগত এখতিয়ার কারও নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসের পর স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।