• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
মাথায় স্কার্ফ পরে ছবি দেওয়ায় তুর্কি শিক্ষার্থীর ফ্রান্সের ভিসা প্রত্যাখ্যান ঢাকায় ‘তেরে বিন’ তারকা ওয়াহাজ, সঙ্গে নুসরাত ফারিয়া পরিবারসহ ২৭ ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে যুক্তরাজ্য খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা ছেলের হত্যার ৫১ দিনের মাথায় এবার বাবাকে গুলি করে হত্যা প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে ‘মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেকের বাথরুমে প্রেমিকার আত্মহত্যা হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, বাঁচলেন প্রাণে শিক্ষক দিবসের ব্যানারে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই

স্বৈরাচার উৎখাতে আমরা যতটা ভালো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় ততটাই খারাপ: মাহফুজ আনাম

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম সম্প্রতি একটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কিংবা কর্তৃত্ববাদী সরকার হঠানোর ক্ষেত্রে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর দক্ষতা সর্বদাই প্রশংসনীয়। কিন্তু দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে স্বৈরাচার হটানোর পর একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বেলায় বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার এই পর্যবেক্ষণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তিনি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, আন্দোলনের মুখে কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার পরিবর্তে অনেক সময় পারস্পরিক কোন্দল ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রাধান্য দেখা যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের সুফল পুরোপুরি ঘরে তোলা সম্ভব হয় না এবং রাষ্ট্রে বারবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও সুশাসন বা প্রকৃত গণতন্ত্র অধরাই থেকে যায়। একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই রাষ্ট্রকাঠামো তৈরির জন্য যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং ঐকমত্য প্রয়োজন, তার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

মাহফুজ আনামের মতে, কেবল একজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটানোই যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতে যাতে কোনো শাসক আর স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ না পায়, সেজন্য শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং শক্তিশালী করতে না পারলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নড়বড়ে থেকে যায়। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো যখনই রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকেছে, তখনই সংস্কারের কথা বললেও ক্ষমতায় এসে প্রায়শই সেই একই পুরনো ধারার চর্চা করেছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

দেশের গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী সমাজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দায় চাপালে চলবে না, বরং পুরো সমাজ ব্যবস্থার মানসিকতা পরিবর্তনের সময় এসেছে। একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার মাধ্যমে দেশটিকে একটি নতুন পথে পরিচালনা করার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেন এই জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com