• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

দত্তকের নামে শিশু কেনাবেচা

Reporter Name / ০ Time View
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

সমাজের কিছু অসাধু চক্র নিঃসন্তান দম্পতিদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শিশু পাচার ও বেচাকেনার মতো জঘন্য অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দত্তক নেওয়ার মতো মানবিক কাজটিকে ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করেছে এই চক্রটি। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রগুলো বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ এলাকার দুস্থ পরিবারগুলোকে টার্গেট করে। অনেক সময় দরিদ্র বাবা-মায়ের আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে কিংবা তাদের ভুল বুঝিয়ে নামমাত্র টাকায় নবজাতক কিনে নেয় প্রতারকরা। পরবর্তীতে সন্তানহীন affluent বা বিত্তশালী পরিবারের কাছে চড়া মূল্যে সেই শিশুগুলোকে দত্তক দেওয়ার নামে বিক্রি করা হয়, যার পুরোটাই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে পরিচালিত হয়।

আইন অনুযায়ী দেশে শিশু দত্তক নেওয়ার সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর নিয়ম থাকলেও এই চক্রগুলো প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে ভুয়া কাগজপত্র ও জাল জন্মসনদ তৈরি করে থাকে। এর ফলে দত্তক নেওয়া শিশুটির প্রকৃত পরিচয় চিরতরে হারিয়ে যায় এবং আইনি সুরক্ষার কোনো বালাই থাকে না। শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, আইনি মারপ্যাঁচ এবং দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগ নিয়েই মূলত এই ধরনের অবৈধ কারবার বছরের পর বছর ধরে ডালপালা বিস্তার করে চলেছে।

এই ধরনের অমানবিক অপরাধ কঠোরহস্তে দমনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা। একইসঙ্গে, শিশু দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করা হলে এই ধরনের অবৈধ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করারও জোর দাবি উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com