• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

মধ্যরাতে নিয়োগপত্র পেলেন কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনে বসা ২০ প্রার্থী

Reporter Name / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ময়মনসিংহের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ জটিলতার অবশেষে একটি অবসান ঘটেছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ময়মনসিংহ জেলার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত তাদের বহুল প্রতীক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে গত বুধবার মধ্যরাতে এই নিয়োগপত্রগুলো প্রকাশ করা হয়, যা চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। তবে সকল জটিলতা কাটেনি, কারণ এই ২২ জনের মধ্যে বাকি দুজন প্রার্থীর ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে এবং তাদের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এর আগে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের অজুহাতে এই প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখায় চরম হতাশায় পড়েন তারা। কোনো সুরাহা না পেয়ে গত বুধবার সকাল সোয়া এগারোটার দিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন ওই প্রার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও নাটকীয় রূপ নেয় যখন কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রার্থী গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। তাদের একটানা এই আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ২০ জনের নিয়োগের সুখবর আসে।

আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা কিংবা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততার রেকর্ড নেই। অথচ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ঠিক কী ধরনের নেতিবাচক তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কখনোই কিছু জানায়নি। ফুলপুরের আন্দোলনকারী কাজী অনিক গণমাধ্যমকে জানান যে মধ্যরাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন দেখে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন এবং সেদিনই কর্মস্থলে যোগদান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। তবে একই ব্যাচে পরীক্ষা দিয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত গফরগাঁওয়ের জাহিদ হাসান হতাশা প্রকাশ করে জানান যে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন বঞ্চিত করা হলো তা তার বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক নির্দেশনার আলোকেই মূলত ওই বিশজন প্রার্থীকে শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। তবে যে দুজন প্রার্থী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত এসে পৌঁছায়নি। নবনিযুক্ত এই কুড়িজন শিক্ষক দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com