কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ মঞ্জুরের মাধ্যমে প্রায় তেতাল্লিশ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত আর্থিক খাতের কারবারি প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদারসহ মোট পনেরো জনের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির মামলার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের তহবিল থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সত্যতা পেয়ে অনুসন্ধানী দলের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সমস্ত নথিপত্র এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পরেই এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। এই মামলায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক মোুহাম্মদ আনোয়ারুল কবীর ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে আসামি করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান স্বন্দীপ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী স্বপন কুমার মিস্ত্রি এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সময়ের নীতিনির্ধারক ও পর্ষদ সদস্যরাও এই আইনি জালে আটকা পড়ছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া এই তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদা রুনাই, সাবেক সিনিয়র ব্যবস্থাপক আল মামুন সোহাগ, সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাফসান রিয়াদ চৌধুরী এবং সুকুমার মৃধা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে আসামিরা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং পরস্পর যোগসাজশে অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। কোনো ধরনের বাস্তব অস্তিত্ব বা কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কাগজ কলমে প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ওই বিশাল অংকের ঋণ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ঋণগ্রহণের অর্থ নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা এসব ভুয়া দলিলপত্র ব্যবহার করে আর্থিক খাতের নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থের অর্থ লুটে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। এর বাইরেও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কঠোর ধারাগুলো যুক্ত করে মামলাটি দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে খুব দ্রুতই আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এ ধরনের দুর্নীতিপরায়ণ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।