কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং আঞ্চলিক সংকট নিরসনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে ইরান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব তুলে ধরে তেহরান। সম্প্রতি নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই কূটনৈতিক তৎপরতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতেই মূলত এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই দীর্ঘমেডায়ী সংকটের একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক সমাধান বের করা সম্ভব। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে একটি সুচিন্তিত রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন পক্ষসহ বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও শর্তগুলো স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পরোক্ষ আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা। সাম্প্রতিক বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিরা দুই দেশের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু নতুন ধারণা বা প্রস্তাব পেশ করেছেন। মূলত এই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই তেহরানের প্রস্তাবগুলো এখন ওয়াশিংটনের টেবিলে পৌঁছেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
আব্বাস আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার ফল হিসেবে খুব শীঘ্রই ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যাবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এর আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও, ইরানের নতুন এই প্রস্তাবের পর দুই পক্ষের যোগাযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব ও গতিশীলতা অর্জন করেছে।