কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান নামের এক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশ মহাসড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জিসান কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং স্থানীয় লোটনী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকায় একটি দোকানের সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, অপহরণের পর তাকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে আটকে রেখে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকারীরা তার মরদেহটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুটাখালী ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়। ভোররাতের দিকে মহাসড়কের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনার সঙ্গে একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিহত জিসানের বড় ভাই কায়সারের সঙ্গে কবির টাওয়ারের মালিকের ভাইয়ের কথোপকথনের ওই অডিওতে জিসানকে নিয়ে হুমকি দেওয়ার সুর শোনা যায়। কায়সারের দাবি, ভাইকে অপহরণের দুই ঘণ্টা আগেই ওই কথোপকথন হয়েছিল। তবে ভাইরাল হওয়া অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবুজবাগ আবাসিক এলাকার ওই ভবনের পার্কিং থেকে একটি সাদা রঙের সন্দেহভাজন এক্স-নোহা গাড়ি শনাক্ত করেছে। তবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ভবনের মালিকপক্ষের লোকজন তা দেখাতে ব্যর্থ হন। চকরিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।