ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে বাংলা কিউআর ভিত্তিক লেনদেনের নিয়মে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে এই মাধ্যমে টাকা লেনদেন করার সময় বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হলে তা দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো কারণে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যাওয়ার পর তা যদি মার্চেন্টের হিসাবে জমা না হয়, তবে সেই অর্থ আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। সংশ্নিষ্ট ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে সর্বোচ্চ ত্রিশ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারى করা পৃথক দুটি সার্কুলারের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক, এমএফএস ও পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এসব নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
লেনদেন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে এবং ডিজিটাল পেমেন্টে উৎসাহ জোগাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর মধ্যে গ্রাহকের হিসাব পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পাবে সর্বোচ্চ চার টাকা এবং মার্চেন্টের লেনদেন গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান পাবে সর্বোচ্চ দুই টাকা। অর্থাৎ এক হাজার টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনার পরিমাণ হবে যথাক্রমে দুই টাকা ও এক টাকা। এই প্রণোদনা সরাসরি কোনো গ্রাহক বা বিক্রেতা পাবেন না, বরং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মাসিক ভিত্তিতে এই অর্থ অর্জন করবে। ট্রেড লাইসেন্সধারী বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবহারকারী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতারাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। এর আগে গত আগস্ট মাসে সীমিত পরিসরে এই প্রণোদনা চালু করা হলেও বর্তমানে এর পরিধি আরও বড় করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকেও অত্যন্ত সহজ ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। কোনো কারণে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে টাকা ফেরত না পাওয়া গেলে গ্রাহক লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ দুই কর্মদিবসের মধ্যে তা গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি গ্রাহককে জানাতে হবে। যদি তাৎক্ষণিকভাবে এর সমাধান না হয়, তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হবে। সেখানে মার্চেন্টের পক্ষের প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করতে হবে এবং বিরোধ দেখা দিলে তা ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া লেনদেনের সঠিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কোনো অননুমোদিত বা প্রতারণামূলক লেনদেন শনাক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ ত্রিশ দিন সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ত্রুটি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তার সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে হবে। বিরোধ নিষ্পত্তির সময় কোনো প্রতিষ্ঠান যদি পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের আবশ্যিকভাবে অর্থ ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি এই ধরনের বিরোধপূর্ণ অর্থের সমপরিমাণ পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন করলে কিংবা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া গ্রাহকের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।